ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পাশ্চিম ভাওয়াল এলাকার নূরা বাড়ির নাছির ও সালমা বেগম দম্পতির একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ করে রেখেছে একই বাড়ির সোহাগী বেগম নামে এক নারী। এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সালমা বেগম।
রবিবার (১৯জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বিগত ২২ বছর দরে নাছির ও সালমা বেগম পরিবার বসবাস করে আসছে তাদের নিজস্ব সম্পত্তিতে। সালমা বেগমের বসত ঘরের সম্পত্তিতে অভিযোগ না থাকলেও চলাচলের পথের সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে জানান সোহাগী বেগম।
প্রতিবেশি সেফালী বেগম, রোকেয়া বেগম ও শাহজাহান (৭০) জানান, সালমা ও নাছির এর বসতঘর যেখানে, তারা এই স্থারে ২০০৪ সালের পূর্ব থেকে বসবাস করে আসছে। তখন থেকে পথ হিসেবে তারা এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছে। পথের যে সম্পত্তি, তার মালিকানা মৃত সেলিম ও সোহাগীর বাবাসহ তিনজনের। তবে তারা পূর্বে কখনোই চলাচলের জন্য বাঁধাগ্রস্ত করেনি সালমা বেগমকে।
ইতিপূর্বে সোহাগী বহিরাগতদের তুচ্চ কথা শুনে সালমার বেগমের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। উভয়ের মধ্যে বেশ কয়েকদিন জগড়া চলতে থাকে। এক পর্যায়ে সোহাগী বাঁশ দিয়ে সালমার চলাচলের একমাত্র পথে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।
প্রতিবেশী শাহজাহান (৭০) জানান, সোহাগী যখন বেড়া দেয়। তখন আমি একাধিকবার নিষেধ করেছি, এটা পুরোনো পথ, বেঁড়া দেওয়া ঠিক হবে না। বাড়িতে একজন আরেকজনের পথ দিয়েই চলাচল করে। কেউ একক সম্পত্তি দিয়ে চলাচলে সম্ভব নয়। সোহাগী অন্যের প্ররোচনায় পথ বন্ধ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বয়োজ্যেষ্ঠ অনেকেই বলেন সোহাগী বেগম ও তার বান্ধবী হাসিনা বেগম খুবই দুষ্ট প্রকৃতির লোক। তারা অহেতুক মানুষের সাথে জগড়ায় লিপ্ত হয় এবং মানুষের মানহানি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করে। তাদের দুজনের এসব আচরণের কারণে এলাকার মানুষ অসন্তুষ্ট।
ভুক্তভোগী সালমা বেগম বলেন, আমরা ঘর থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ ছিলো এই রাস্তা, চলাচলের ভিন্ন কোন পথ নাই, যেকোন কাজে, যে কোন প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হতে হলে বিকল্প পথ নাই। সোহাগী বেগমের সাথে আমাদেরর কোন দন্ধে নেই। উনার সাথে আমার কোন জগড়াও হয়নি। পাশ্ববর্তী বাড়ির হাছিনা বেগমের কথায় সোহাগী বেগম আমাদের সাথে এমন কাজ করেছে। একেবারে অহেতুক কারনে পথে বেঁড়া দিয়ে রাখছে। আজ পাঁচদিন আমরা অবরুদ্ধ। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।
মৃত সেলিমের স্ত্রী রোজিনা জানান, এই পথে আমাদের সম্পত্তি আছে, তবে আমরা বেড়া দেয়নি, আমরা সোহাগী বেগমকে বেড়া দিতে বলিনাই, কেন দিছে সেজানে নিষেধও করিনাই।
সোহাগী বেগমের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কোন মন্তব্য দিতে রাজি হননি।তিনি যাদের কাছে বিচার দিয়েছেন, তারা যা করার করবে।
সোহাগীর ভাই প্রবাসী রাকিবের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বোন বেড়া দিয়েছে, সালমা বেগমকে বলেন, তারা বিকল্প উপায় খুঁজত, এবিষয়ে আপনারা নিউজ করবেন না। যদি করেন তাহলে আমি আপনাদের বিরুদ্ধে যা করা লাগে করবো।
পাইকপাড়া ইউপি সদস্য শামীম মেম্বার জানান, এবিষয়টা আমি যেনেছি, এটা তাদের পারিবারিক কোন্দল। আমি বেড়া খুলে দেওয়ার জন্য বলেছি, তারা খুলবে না। সোহাগী বেগমের নিজস্ব কেউ আছে তারা নাকি এবিষয়ে দেখবে। সে অপেক্ষায় আছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলেছি ইউপি সদস্যসহ বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য।




















