ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে ১০ বছর বয়সী খাদিজার মৃ”ত্যু: চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

Oplus_131072

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে খাদিজা আক্তার (১০) গত ২০ জুলাই ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত খাদিজা হাজীগঞ্জ উপজেলার দেশগাঁও আদর্শ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার দেশগাঁও পশ্চিম আটিয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়ার মেয়ে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই অসুস্থ হয়ে পড়লে খাদিজাকে হাজীগঞ্জের হলি কেয়ার ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমানের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে টাইফয়েড জ্বর হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও ডেঙ্গু বা নিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগ শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। ফলে প্রকৃত রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে বলে দাবি স্বজনদের।
পরিবার জানায়, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও খাদিজার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৯ জুলাই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, খাদিজার মৃত্যুর কারণ ছিল কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর, যা নিউমোনিয়া, সন্দেহভাজন অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রোম (ARDS), থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া এবং সেপটিসেমিয়া-জনিত জটিলতার কারণে ঘটে। অর্থাৎ গুরুতর সংক্রমণ, রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম ব্যর্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুরুতেই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হলে হয়তো খাদিজার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রোগী তার কাছে আসার পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ভুল চিকিৎসা করা হয়নি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমেদ তানভীর বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খাদিজার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের মধ্যেও জোরালো হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে ১০ বছর বয়সী খাদিজার মৃ”ত্যু: চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আপডেট : ১১:৪০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে খাদিজা আক্তার (১০) গত ২০ জুলাই ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত খাদিজা হাজীগঞ্জ উপজেলার দেশগাঁও আদর্শ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার দেশগাঁও পশ্চিম আটিয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়ার মেয়ে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই অসুস্থ হয়ে পড়লে খাদিজাকে হাজীগঞ্জের হলি কেয়ার ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমানের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে টাইফয়েড জ্বর হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও ডেঙ্গু বা নিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগ শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। ফলে প্রকৃত রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে বলে দাবি স্বজনদের।
পরিবার জানায়, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও খাদিজার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে ১৯ জুলাই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, খাদিজার মৃত্যুর কারণ ছিল কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর, যা নিউমোনিয়া, সন্দেহভাজন অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রোম (ARDS), থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া এবং সেপটিসেমিয়া-জনিত জটিলতার কারণে ঘটে। অর্থাৎ গুরুতর সংক্রমণ, রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম ব্যর্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, শুরুতেই সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হলে হয়তো খাদিজার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রোগী তার কাছে আসার পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ভুল চিকিৎসা করা হয়নি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমেদ তানভীর বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে খাদিজার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের মধ্যেও জোরালো হয়েছে।