ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজাদ সরকার হত্যা মামলায় একের পর এক গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত ফরহাদ মজুমদারের খোঁজে পুলিশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • 31

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আজাদ সরকার হত্যা মামলায় একের পর এক আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে আত্মসমর্পণের ঘটনায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ইতোমধ্যে মামলার একাধিক এজাহারভুক্ত আসামি কারাগারে রয়েছেন। এদিকে মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ মজুমদারের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টোরাগড় সরকার বাড়ির সামনে নিজ বসতবাড়ির সামনে হামলার শিকার হন আজাদ সরকার। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট নিহতের ছেলে আহামেদ কবির হিমেল হাজীগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর নাম উঠে আসে।

তদন্তের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিঠু কাজী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক কাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মোবারক কাজী আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

এছাড়া গত ১৬ জুলাই মামলার আরও পাঁচ আসামি—আওয়ামী লীগ নেতা কাজী বশির, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সুমন, পৌর ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন আজাদ, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজী রাকিব এবং রুবেল কাজী চাঁদপুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব সুবিদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ মজুমদার আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সক্রিয়ভাবে অভিযান পরিচালনা করছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্তে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমকে ঘিরে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জসহ চাঁদপুরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নিহত আজাদ সরকারের পরিবার দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক আসামির গ্রেপ্তার, আদালতে আত্মসমর্পণ এবং সর্বশেষ ফরহাদ মজুমদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতার জায়গা হবে না’—চাঁদপুরে শেখ ফরিদ মানিক

আজাদ সরকার হত্যা মামলায় একের পর এক গ্রেপ্তার, পরোয়ানাভুক্ত ফরহাদ মজুমদারের খোঁজে পুলিশ

আপডেট : ০৬:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আজাদ সরকার হত্যা মামলায় একের পর এক আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে আত্মসমর্পণের ঘটনায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ইতোমধ্যে মামলার একাধিক এজাহারভুক্ত আসামি কারাগারে রয়েছেন। এদিকে মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ফরিদগঞ্জ উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ মজুমদারের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টোরাগড় সরকার বাড়ির সামনে নিজ বসতবাড়ির সামনে হামলার শিকার হন আজাদ সরকার। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই তিনি মারা যান।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট নিহতের ছেলে আহামেদ কবির হিমেল হাজীগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর নাম উঠে আসে।

তদন্তের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিঠু কাজী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোবারক কাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মোবারক কাজী আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

এছাড়া গত ১৬ জুলাই মামলার আরও পাঁচ আসামি—আওয়ামী লীগ নেতা কাজী বশির, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সুমন, পৌর ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন আজাদ, পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজী রাকিব এবং রুবেল কাজী চাঁদপুরের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব সুবিদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ মজুমদার আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সক্রিয়ভাবে অভিযান পরিচালনা করছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্তে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমকে ঘিরে হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জসহ চাঁদপুরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নিহত আজাদ সরকারের পরিবার দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক আসামির গ্রেপ্তার, আদালতে আত্মসমর্পণ এবং সর্বশেষ ফরহাদ মজুমদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।