ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলবে অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন 

Oplus_131072

 ফিটনেসবিহীন বাস এবং অদক্ষ চালক দিয়ে বাবুরহাট-মতলব পেন্নাই সড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার জৈনপুর পরিবহন, জৈনপুর এক্সপ্রেস, মতলব এক্সপ্রেস বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মতলবের সচেতন মহল।
 বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকালে মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের পানির ট্যাংকি এলাকায় অটোগাড়ী মালিক ও ড্রাইভার কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন সকালে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সদস্যরা গাড়ির কাগজপত্র দেখে ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি বন্ধ করে দেয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অটোগাড়ি মালিক ও ড্রাইভার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাওলানা আনসার উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর প্রধান। বৃহস্পতিবার সকালে  নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক  বদিউল আলম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির হোসেনসহ অন্যারা বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাবুরহাট-মতলব পেন্নাই সড়কে দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব ও প্রাণহানি রোধ করতে হলে অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়ে ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল বন্ধ করতে হবে। এই সড়কে চলাচলকারী জৈনপুর পরিবহন, জৈনপুর এক্সপ্রেস ও মতলব এক্সপ্রেস নামীয় বাসগুলোর চালকদের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করানো উচিত। সড়কের বাঁকগুলোর মধ্যে চালকদের বেপোয়ারা ভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই। নতুবা অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়ে ফিটনেসবিহীন বাস সড়কে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বাবু বলেন,আমাদের উদ্দেশ্য কোনো পরিবহন বন্ধ করা নয়; আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।
আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার—
যে পরিবহন আমাদের ১৩ দফা দাবি মেনে চলবে, আইন ও নিয়ম মেনে নিরাপদভাবে যাত্রীসেবা দেবে, সেই পরিবহনই এই সড়কে চলাচল করবে। আমরা কোনো বৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে নই; আমরা অনিয়ম, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলার বিরুদ্ধে।
আমাদের ১৩ দফা দাবির মূল বিষয়গুলো:
১. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালক নিশ্চিত করা।
২.বাসের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ রাখা।
৩.স্পিড গভর্নর স্থাপন করে নির্ধারিত গতিসীমা (৩৫–৪০ কিমি/ঘণ্টা) মেনে চলা।
৪.ওভারটেকিং ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করা।
৫. ঈদসহ যেকোনো সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা।
৬.নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করা।
৭.অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন আচরণ করা।
৮.চালক-হেলপারদের মাদকমুক্ত রাখা।
৯. দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
১০. নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
১১. প্রতিটি বাসে ড্যাশক্যাম (ক্যামেরা) স্থাপন করা।
এবং আমাদের স্মারকলিপিতে উল্লেখিত বাকি সব দাবিও দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
বাবু আরও বলেন, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য-নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন। ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন বাস ও বেপরোয়া গতির কারনে আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না।পরিবহন বন্ধ নয়, অনিয়ম বন্ধ চাই।
দুর্ঘটনা নয়, নিরাপদ সড়ক চাই।
১৩ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য আন্দোলন চলবে, ইনশাআল্লাহ।
অটোগাড়ি কল্যান সমিতির সহ সভাপতি শাহ জালাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাবু, কোষাধাক্ষ্য আক্তার হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে চলাচলকারী অটো গাড়ির মালিক ও চালকসহ সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সকালে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সদস্যরাসহ ছাত্র-জনতা, সাধারণ জনগণ নিয়ম বহির্ভুত গাড়ি বন্ধের প্রতিবাদে উপস্থিত ছিলেন।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন,ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি,নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, গাড়ির মালিক ও চালকদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৫ আগষ্ট) মতলব – বাবুরহাট সড়কের রালদিয়া এলাকায় জৈনপুর পরিবহন বাসের ধাক্কায় সিএনজি দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া। এতে ১জন নিহত ও ৩ জন গুরুতর আহত হয়।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

মতলবে অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন 

আপডেট : ১১:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
 ফিটনেসবিহীন বাস এবং অদক্ষ চালক দিয়ে বাবুরহাট-মতলব পেন্নাই সড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার জৈনপুর পরিবহন, জৈনপুর এক্সপ্রেস, মতলব এক্সপ্রেস বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে মতলবের সচেতন মহল।
 বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) বিকালে মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের পানির ট্যাংকি এলাকায় অটোগাড়ী মালিক ও ড্রাইভার কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একইদিন সকালে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সদস্যরা গাড়ির কাগজপত্র দেখে ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি বন্ধ করে দেয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অটোগাড়ি মালিক ও ড্রাইভার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাওলানা আনসার উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর প্রধান। বৃহস্পতিবার সকালে  নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক  বদিউল আলম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির হোসেনসহ অন্যারা বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাবুরহাট-মতলব পেন্নাই সড়কে দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব ও প্রাণহানি রোধ করতে হলে অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়ে ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল বন্ধ করতে হবে। এই সড়কে চলাচলকারী জৈনপুর পরিবহন, জৈনপুর এক্সপ্রেস ও মতলব এক্সপ্রেস নামীয় বাসগুলোর চালকদের বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট করানো উচিত। সড়কের বাঁকগুলোর মধ্যে চালকদের বেপোয়ারা ভাবে গাড়ি চালানোর কারণেই প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই। নতুবা অদক্ষ চালক ও হেলপার দিয়ে ফিটনেসবিহীন বাস সড়কে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বাবু বলেন,আমাদের উদ্দেশ্য কোনো পরিবহন বন্ধ করা নয়; আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।
আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার—
যে পরিবহন আমাদের ১৩ দফা দাবি মেনে চলবে, আইন ও নিয়ম মেনে নিরাপদভাবে যাত্রীসেবা দেবে, সেই পরিবহনই এই সড়কে চলাচল করবে। আমরা কোনো বৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে নই; আমরা অনিয়ম, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মানুষের প্রাণ নিয়ে খেলার বিরুদ্ধে।
আমাদের ১৩ দফা দাবির মূল বিষয়গুলো:
১. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালক নিশ্চিত করা।
২.বাসের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ রাখা।
৩.স্পিড গভর্নর স্থাপন করে নির্ধারিত গতিসীমা (৩৫–৪০ কিমি/ঘণ্টা) মেনে চলা।
৪.ওভারটেকিং ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করা।
৫. ঈদসহ যেকোনো সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা।
৬.নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করা।
৭.অতিরিক্ত যাত্রী বহন বন্ধ করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন আচরণ করা।
৮.চালক-হেলপারদের মাদকমুক্ত রাখা।
৯. দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
১০. নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
১১. প্রতিটি বাসে ড্যাশক্যাম (ক্যামেরা) স্থাপন করা।
এবং আমাদের স্মারকলিপিতে উল্লেখিত বাকি সব দাবিও দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
বাবু আরও বলেন, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য-নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন। ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন বাস ও বেপরোয়া গতির কারনে আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না।পরিবহন বন্ধ নয়, অনিয়ম বন্ধ চাই।
দুর্ঘটনা নয়, নিরাপদ সড়ক চাই।
১৩ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ন্যায্য আন্দোলন চলবে, ইনশাআল্লাহ।
অটোগাড়ি কল্যান সমিতির সহ সভাপতি শাহ জালাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাবু, কোষাধাক্ষ্য আক্তার হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে চলাচলকারী অটো গাড়ির মালিক ও চালকসহ সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সকালে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সদস্যরাসহ ছাত্র-জনতা, সাধারণ জনগণ নিয়ম বহির্ভুত গাড়ি বন্ধের প্রতিবাদে উপস্থিত ছিলেন।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন,ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি,নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, গাড়ির মালিক ও চালকদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। যাত্রীদের ভোগান্তি রোধে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৫ আগষ্ট) মতলব – বাবুরহাট সড়কের রালদিয়া এলাকায় জৈনপুর পরিবহন বাসের ধাক্কায় সিএনজি দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া। এতে ১জন নিহত ও ৩ জন গুরুতর আহত হয়।