ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৮ বছর ধরে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে আজানের সুমধুর ধ্বনি ছড়াচ্ছেন হাফেজ মো. শাহ ইমরান

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • 330

ফজরের নীরবতা ভেঙে যখন হাজীগঞ্জের আকাশে ভেসে আসে সুমধুর আজানের ধ্বনি, তখন অসংখ্য মানুষের ঘুম ভাঙে। কেউ অজু করে ছুটে যান মসজিদের দিকে, কেউবা ঘরেই নামাজের প্রস্তুতি নেন। আর এই পবিত্র আহ্বানের সঙ্গে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে একটি কণ্ঠ—হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সম্মানিত মোয়াজ্জেম হাফেজ মো. শাহ ইমরান।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর—নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, অনেক পরিচিত মুখ হারিয়ে গেছে, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের আজান যেন একইভাবে হাজীগঞ্জবাসীকে ডেকে চলেছে নামাজের পথে।
২৮ বছরের এই দীর্ঘ পথচলা শুধু একটি চাকরি কিংবা দায়িত্ব পালনের ইতিহাস নয়; এটি একনিষ্ঠ খেদমত, ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনের এক অনন্য গল্প।
হাফেজ মো. শাহ ইমরানের কণ্ঠে আজান শুনে হাজীগঞ্জের কত মানুষ যে দিনের পর দিন নামাজের জন্য মসজিদে ছুটে গেছেন, তার হিসাব হয়তো কারও কাছে নেই। তাঁর কণ্ঠের সেই পরিচিত সুর অনেকের কাছে এখন শুধু আজান নয়—এটি যেন শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও জীবনের নানা স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক আবেগের নাম।
একটি শিশুর বড় হয়ে ওঠা থেকে শুরু করে একজন বৃদ্ধের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত—হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মাইকে তাঁর কণ্ঠের উপস্থিতি যেন সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে।
তবে এই দীর্ঘ খেদমতের পথে শুধু আজানের সুমধুর ধ্বনিই ছড়াননি হাফেজ মো. শাহ ইমরান। জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাবিধুর মুহূর্তগুলোরও সাক্ষী হয়েছেন তিনি। ২৮ বছরে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মাইকে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করেছেন তিনি।
কত শত পরিচিত-অপরিচিত মানুষের ইন্তেকালের সংবাদ তাঁর কণ্ঠে প্রচারিত হয়েছে, তার হিসাব হয়তো তাঁর নিজের কাছেও নেই। কখনো সেই সংবাদ ছিল কোনো পরিচিত মানুষের, কখনো প্রতিবেশীর, কখনো আত্মীয়-স্বজনের, আবার কখনো এমন কারও—যার সঙ্গে হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ও ছিল না।
মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে যখন তিনি কারও মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করেছেন, তখন হয়তো তাঁর নিজের মনেও বারবার ভেসে উঠেছে জীবনের অনিবার্য পরিণতির কথা। আজ যে মানুষটি অন্যের মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করছেন, একদিন তাকেও এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে—এই চিরন্তন সত্য যেন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গে মিশে আছে।
আজানের কণ্ঠে মানুষকে নামাজের দিকে ডেকেছেন, আবার সেই একই মাইকে মানুষকে জানিয়েছেন প্রিয়জন হারানোর সংবাদ। একদিকে ইবাদতের আহ্বান, অন্যদিকে মৃত্যুর স্মরণ—হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মাইকের সঙ্গে তাঁর ২৮ বছরের পথচলা যেন জীবনের এই দুই বাস্তবতাকেই ধারণ করে আছে।
এই দীর্ঘ সময়ে হাজীগঞ্জের বহু মানুষ তাঁর কণ্ঠের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর আজান শুনে বড় হয়েছে। অনেকের কাছে তিনি শুধু একজন মোয়াজ্জেম নন; তিনি হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের দৈনন্দিন জীবনেরই একটি পরিচিত অংশ।
ভোরের আজান, দুপুরের আহ্বান, বিকেলের সুর, সন্ধ্যার ডাক কিংবা রাতের আজান—দিনের প্রতিটি প্রহরে তাঁর কণ্ঠে ভেসে ওঠা আল্লাহর ঘরের সেই আহ্বান হাজীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে দায়িত্বের প্রতি এমন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। জীবনের নানা ব্যস্ততা, সময়ের পরিবর্তন কিংবা প্রতিকূলতা—কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর দায়িত্ব থেকে দূরে সরাতে পারেনি। নীরবে, নিরবে, প্রচারের আড়ালে তিনি করে চলেছেন তাঁর প্রিয় মসজিদের খেদমত।
তাঁর এই দীর্ঘ খেদমতকে হাজীগঞ্জবাসীর অনেকেই একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। কোনো বড় আয়োজন কিংবা প্রচারের আলো নয়—বরং প্রতিদিনের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেই তিনি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।
হাজীগঞ্জের ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সঙ্গে তাঁর ২৮ বছরের সম্পর্ক আজ শুধু একটি দায়িত্বের ইতিহাস নয়; এটি একটি সময়ের ইতিহাস। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত অসংখ্য আজান যেমন মানুষকে নামাজের দিকে আহ্বান জানিয়েছে, তেমনি তাঁর কণ্ঠে প্রচারিত অসংখ্য মৃত্যুসংবাদ মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে—এই পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী, একদিন সবাইকে ফিরে যেতে হবে মহান আল্লাহর কাছে।
হাজীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, সুস্থতা ও সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত হাফেজ মো. শাহ ইমরান যেন একই নিষ্ঠা ও ভালোবাসা নিয়ে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের খেদমত করে যেতে পারেন। তাঁর কণ্ঠের সেই পরিচিত আজান যেন আরও বহু বছর হাজীগঞ্জের আকাশ-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়।
মহান আল্লাহ হাফেজ মো. শাহ ইমরানের ২৮ বছরের খেদমত কবুল করুন। তাঁকে সুস্থতা, নেক হায়াত, শান্তি ও কল্যাণময় জীবন দান করুন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি আজান, প্রতিটি দ্বীনি খেদমত ও মানুষের জন্য করা প্রতিটি ভালো কাজকে নেকির পাল্লায় ভারী করে দিন—এটাই হাজীগঞ্জবাসীর আন্তরিক দোয়া ও প্রত্যাশা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

২৮ বছর ধরে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে আজানের সুমধুর ধ্বনি ছড়াচ্ছেন হাফেজ মো. শাহ ইমরান

আপডেট : ১০:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ফজরের নীরবতা ভেঙে যখন হাজীগঞ্জের আকাশে ভেসে আসে সুমধুর আজানের ধ্বনি, তখন অসংখ্য মানুষের ঘুম ভাঙে। কেউ অজু করে ছুটে যান মসজিদের দিকে, কেউবা ঘরেই নামাজের প্রস্তুতি নেন। আর এই পবিত্র আহ্বানের সঙ্গে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে একটি কণ্ঠ—হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সম্মানিত মোয়াজ্জেম হাফেজ মো. শাহ ইমরান।
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর—নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, অনেক পরিচিত মুখ হারিয়ে গেছে, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের আজান যেন একইভাবে হাজীগঞ্জবাসীকে ডেকে চলেছে নামাজের পথে।
২৮ বছরের এই দীর্ঘ পথচলা শুধু একটি চাকরি কিংবা দায়িত্ব পালনের ইতিহাস নয়; এটি একনিষ্ঠ খেদমত, ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনের এক অনন্য গল্প।
হাফেজ মো. শাহ ইমরানের কণ্ঠে আজান শুনে হাজীগঞ্জের কত মানুষ যে দিনের পর দিন নামাজের জন্য মসজিদে ছুটে গেছেন, তার হিসাব হয়তো কারও কাছে নেই। তাঁর কণ্ঠের সেই পরিচিত সুর অনেকের কাছে এখন শুধু আজান নয়—এটি যেন শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও জীবনের নানা স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এক আবেগের নাম।
একটি শিশুর বড় হয়ে ওঠা থেকে শুরু করে একজন বৃদ্ধের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত—হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মাইকে তাঁর কণ্ঠের উপস্থিতি যেন সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে।
তবে এই দীর্ঘ খেদমতের পথে শুধু আজানের সুমধুর ধ্বনিই ছড়াননি হাফেজ মো. শাহ ইমরান। জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাবিধুর মুহূর্তগুলোরও সাক্ষী হয়েছেন তিনি। ২৮ বছরে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মাইকে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করেছেন তিনি।
কত শত পরিচিত-অপরিচিত মানুষের ইন্তেকালের সংবাদ তাঁর কণ্ঠে প্রচারিত হয়েছে, তার হিসাব হয়তো তাঁর নিজের কাছেও নেই। কখনো সেই সংবাদ ছিল কোনো পরিচিত মানুষের, কখনো প্রতিবেশীর, কখনো আত্মীয়-স্বজনের, আবার কখনো এমন কারও—যার সঙ্গে হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ও ছিল না।
মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে যখন তিনি কারও মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করেছেন, তখন হয়তো তাঁর নিজের মনেও বারবার ভেসে উঠেছে জীবনের অনিবার্য পরিণতির কথা। আজ যে মানুষটি অন্যের মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করছেন, একদিন তাকেও এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে—এই চিরন্তন সত্য যেন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের সঙ্গে মিশে আছে।
আজানের কণ্ঠে মানুষকে নামাজের দিকে ডেকেছেন, আবার সেই একই মাইকে মানুষকে জানিয়েছেন প্রিয়জন হারানোর সংবাদ। একদিকে ইবাদতের আহ্বান, অন্যদিকে মৃত্যুর স্মরণ—হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মাইকের সঙ্গে তাঁর ২৮ বছরের পথচলা যেন জীবনের এই দুই বাস্তবতাকেই ধারণ করে আছে।
এই দীর্ঘ সময়ে হাজীগঞ্জের বহু মানুষ তাঁর কণ্ঠের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর আজান শুনে বড় হয়েছে। অনেকের কাছে তিনি শুধু একজন মোয়াজ্জেম নন; তিনি হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের দৈনন্দিন জীবনেরই একটি পরিচিত অংশ।
ভোরের আজান, দুপুরের আহ্বান, বিকেলের সুর, সন্ধ্যার ডাক কিংবা রাতের আজান—দিনের প্রতিটি প্রহরে তাঁর কণ্ঠে ভেসে ওঠা আল্লাহর ঘরের সেই আহ্বান হাজীগঞ্জের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে দায়িত্বের প্রতি এমন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। জীবনের নানা ব্যস্ততা, সময়ের পরিবর্তন কিংবা প্রতিকূলতা—কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর দায়িত্ব থেকে দূরে সরাতে পারেনি। নীরবে, নিরবে, প্রচারের আড়ালে তিনি করে চলেছেন তাঁর প্রিয় মসজিদের খেদমত।
তাঁর এই দীর্ঘ খেদমতকে হাজীগঞ্জবাসীর অনেকেই একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। কোনো বড় আয়োজন কিংবা প্রচারের আলো নয়—বরং প্রতিদিনের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেই তিনি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।
হাজীগঞ্জের ঐতিহাসিক বড় মসজিদের সঙ্গে তাঁর ২৮ বছরের সম্পর্ক আজ শুধু একটি দায়িত্বের ইতিহাস নয়; এটি একটি সময়ের ইতিহাস। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত অসংখ্য আজান যেমন মানুষকে নামাজের দিকে আহ্বান জানিয়েছে, তেমনি তাঁর কণ্ঠে প্রচারিত অসংখ্য মৃত্যুসংবাদ মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছে—এই পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী, একদিন সবাইকে ফিরে যেতে হবে মহান আল্লাহর কাছে।
হাজীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, সুস্থতা ও সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত হাফেজ মো. শাহ ইমরান যেন একই নিষ্ঠা ও ভালোবাসা নিয়ে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের খেদমত করে যেতে পারেন। তাঁর কণ্ঠের সেই পরিচিত আজান যেন আরও বহু বছর হাজীগঞ্জের আকাশ-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়।
মহান আল্লাহ হাফেজ মো. শাহ ইমরানের ২৮ বছরের খেদমত কবুল করুন। তাঁকে সুস্থতা, নেক হায়াত, শান্তি ও কল্যাণময় জীবন দান করুন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিটি আজান, প্রতিটি দ্বীনি খেদমত ও মানুষের জন্য করা প্রতিটি ভালো কাজকে নেকির পাল্লায় ভারী করে দিন—এটাই হাজীগঞ্জবাসীর আন্তরিক দোয়া ও প্রত্যাশা।