জসিম উদ্দিন, ফরিদগঞ্জ:
ঈদুল আজহার মূল তাৎপর্য হচ্ছে পছন্দের পশুকে কোরবানি দেওয়া। সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে সামর্থ্যবানরা গরু, ছাগল, যে যার মতো পছন্দের পশুকে কোরবানি করেছেন। কোরবানি শেষে এখন পশুর কাঁচা চামড়া নিয়ে চলছে অসম বাণিজ্য। সাধারণত কোরবানি পশুর চামড়ার মূল্যটা পেয়ে থাকেন মাদ্রাসার এতিমরা।
গত কয়েক বছরে চামড়ার বাজার এতটাই নিম্নমুখী হয়েছে যে চামড়া বিক্রির প্রবণতাই কমে গেছে। এখন কেউ পশু কোরবানি করলে চামড়া আর বিক্রি করেন না। মাদ্রাসার ছাত্র বা গরিব কাউকে দিয়ে দেন। কেননা চামড়া দাম এতটাই কম যে সেটি বহন করে বিক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছানোর ধৈর্য্য থাকে না।
ফরিদগঞ্জে দেখা গেছে ফুট ইঞ্চির বালাই নেই, চোখের আন্দাজে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে লবণ মেশাচ্ছেন। শুধু আড়তে নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী।
বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া নিয়ে মাদ্রাসায় ছুটছেন মাদ্রাসার ছাত্ররা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যতগুলো ট্রাক ভর্তি চামড়া দেখা গেছে সেটার অধিংকাংশই কোনো না কোনো মাদ্রাসার ।
সরকারি দামে উপজেলার কোথাও চামড়া কিনতে দেখা যায়নি। পশ্চিম সানকি সাইর জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে চামড়া কেনাবেচা চলছে। সেখানে একজন চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ঈদের তুলনায় এবারের ঈদে কোরবানি পশুর চামড়ার দাম একটু বাড়তি।
মাদ্রাসা শিক্ষাক দেলোয়ার হোসেন মল্লিক গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে ৮০টি গরুর চামড়া নিয়ে এসেছেন বিনামূল্যে। তিনি জানান, চামড়া প্রতি সাড়ে ৪০০ টাকা দিতে চাচ্ছে। এই দামের চামড়া বিক্রি করলে হাজিরাও উঠবে না। বাড়ি বাড়ি থেকে কামলা খরচ দিয়ে চামড়া নিয়ে এসে এভাবে কম মূল্যে বিক্রি করতে হবে বুঝতে পারিনি। সরকারি দামে কেউ নিচ্ছে না।
গরুর চামড়া আকার ভেদে ৬০০-৭০০ টাকা বলা হলেও ব্যাবসায়ীরা কিনছে ৪৫০-৪৮০ টাকায়। অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের পকেটেই যাচ্ছে গরিবের হক চামড়ার সিংহভাগ টাকা।
চামড়ার প্রকৃত মূল্য যে এতিম বা মাদ্রাসার ছাত্রদের কল্যাণে যাওয়ার কথা সেই মূল্য তারা পাচ্ছেন না বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। আকবর হোসেন নামে মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, অনেক জায়গা থেকে আমরা ফ্রিতেই চামড়া পাই। আবার কিছু কিনে আনতে হয়। গাড়ি ভাড়া দিয়ে আনার পর যে দাম বলে সেই দামে বিক্রি করলে কিছু থাকে না। সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু সেই দাম কতটুক মানা হচ্ছে তা মনিটর করবে কে? কোথাও তো মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। এই কারণে যে যেভাবে পারছে গরিব- এতিমদের ঠকাচ্ছে।




















