জসিম উদ্দিন, ফরিদগঞ্জ:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫ নং রূপসা উওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাউছারুল আলম কামরুল এর বিরুদ্ধে তার পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন লিটনের উপর হামলা, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১ঘটিকায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে ওই ইউনিয়নের ৩ জন ইউপি সদস্য একত্রিত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করে বলা হয়, উপজেলার রূপসা উওর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাউছারুল আলম কামরুল গত ৮ জুলাই পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে অসহায়-দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ চাল ১০ কেজি হারে বিতরণ করেন। চেয়ারম্যান ওই কার্ড নিজের ছবি ব্যবহার করে আমি ব্যতীত প্রত্যেক ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য এবং তাহার নিজের নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওই কার্ড বিতরণ করে। বিতরণের দিন ২ নং ওয়ার্ড ও আমার ৮ নং ওয়ার্ডের কতিপয় লোকদের কাছে বুয়া কাড সনাক্ত করে ঐ কাডদ্বারী লোকদের পরিকল্পিত বক্তব্য মোবাইলে রেকর্ড করেন চেয়ারম্যান নিজেই ।পরে দুই নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ হাসান আলী ও আমার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এবং সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ ছাপানো হয়। চাল বিতরণের পূর্বে সকল সদস্যদের নিয়ে মিটিং করার নিয়ম থাকলেও তিনি তা করেননি। নির্ধারিত সরকারি কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিতরণের নিয়ম থাকলেও অফিসারের সময়কে উপেক্ষা করে ৭ তারিখের পরিবর্তে ৮ তারিখে চাল বিতরণ করেন এবং তাৎক্ষণিক কোন মাস্টার রোল করেননি তিনি।
চেয়ারম্যানের সাথে পূর্বের একটি সমস্যা নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে সেই মামলার বাদী আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার। সেজন্য আমাকে কোন কার্ড তিনি দেননি। তিনি নিজে ও তার লোক দিয়ে আমার ওয়ার্ডে ওই কার্ড বিতরণ করেন কিন্তু খোঁজ দিয়ে জানতে পারি চেয়ারম্যান কতূক সমাপ্ত করা ওই ভুয়া কার্ড আমার ওয়ার্ড ছাড়াও অন্যান্য সকল ওয়ার্ডে হওয়া যায়। তাহলে এটাই প্রমাণিত হয় তিনি নিজেই ছবিও স্বাক্ষর ব্যতিক্রম করে আমাদেরকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে এই ঘৃণ্যতম কাজটি করেন।
বিগত মাসে ১/: এর বরাদ্দ আসলে ঐ অর্থ দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করার কথা থাকলেও তিনি তাহা না করে নিজের খেয়াল খুশি মতো নামমাত্র অর্থ অর্থ ব্যয় করে অফিসের উন্নয়ন করেন।
তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে জন্ম নিবন্ধন মৃত্যু সনদ ওয়ারিশ সনদ প্রত্যয়নপত্র সহ সকল সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন যার সঠিক জবাব আমরা এলাকাবাসীদের দিতে ব্যর্থ হই। এতে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে আমি মনে করি চেয়ারম্যানের এ সকল অনৈতিক বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার বাহিনী কর্তৃক আমরা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হই।
বিগত কাজের বিনিময়ে খাদ্য-কর্মসূচির ৪০ দিনের প্রকল্পে কোন ওয়ার্ডেই কাজ শুরু করেননি তিনি। কিন্তু নামে বেনামে সিম কার্ড ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করে তিনি এককভাবে হাতিয়ে নেন যার প্রমাণ আপনারা তদন্ত করলেই পেয়ে যাবেন।
চেয়ারম্যানের এ সকল অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষে কামনা করছি।




















