বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গড়ফতেপুর এলাকায় আদালতে বিচারাধীন সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে প্রায় ৮০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন জমির ভোগদখলকারী মোঃ জাকিরুল ইসলাম জাকির। একই সঙ্গে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি, গালিগালাজ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনাতলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মোঃ জাকিরুল ইসলাম জাকির। তিনি গড়ফতেপুর এলাকার মুন্জুরুল ইসলামের ছেলে।
জাকিরুল ইসলাম জানান, তার নানী মোছাঃ হাসনা বানুর নামে কবলা দলিলমূলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি রয়েছে। পরবর্তীতে তারা ওয়ারিশসূত্রে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তাদের ঘরবাড়ি রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা লাগিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন।
তবে সম্পত্তি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলে জানান তিনি। এ বিরোধের জেরে তার নানী মোছাঃ হাসনা বানু বগুড়ার বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে মোকদ্দমা নং-৮৯/২০২৩ দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
জাকিরুল ইসলামের অভিযোগ, মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বাধা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।
তার দাবি, সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ নান্নু মিয়া, মোছাঃ নুরুন নাহার বেগম ও মোঃ সুজন মিয়া তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে থাকা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৮০টি গাছ কেটে ফেলা হয়।
জাকিরুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটতে বাধা দিলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিযুক্তরা গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে আবারও গাছপালা কেটে ফেলা, মারধর এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গাছ কাটার ঘটনায় প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন জাকিরুল ইসলাম।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি। তাদের মধ্যে মোঃ রাসেল সরকার ও মোঃ জুলফিকার আলী বাবলাসহ আরও অনেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাকিরুল ইসলাম বলেন, তারা কোনো সংঘাত চান না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষেও নন। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই তারা আস্থা রাখতে চান।
তিনি বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে অন্যায় প্রতিশোধ চাই না। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক এবং যারা আইন ভঙ্গ করেছে বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জাকিরুল ইসলাম প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কয়েকটি দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে—৫ অক্টোবরের গাছ কাটার ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতে বিচারাধীন সম্পত্তি নিয়ে কোনো পক্ষ যাতে জোরপূর্বক দখল বা গাছপালা কর্তন করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
তিনি আরও দাবি করেন, ভবিষ্যতে তাদের ওপর হামলা, মারধর, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, গাছপালা কর্তন কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মতো কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
জাকিরুল ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের শক্তি হলো আইন, আদালত এবং গণমাধ্যম। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং আমরা আমাদের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা পাই।
বিচারাধীন জমিতে গাছ কাটার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারঃ সাংবাদিক সম্মেলনে জাকিরুল
-
শামীম সুজন : - আপডেট : ১১:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- 38
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















