ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে গোল্ডেন হসপিটালে ভুল রিপোর্ট ! অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী | Rknews71

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৪:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২
  • 258

 
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ ||
হাজীগঞ্জ বাজারস্থ গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবের ভুল রিপোর্টে তাছলিমা বেগম (৪২) নামের এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী মৃত্যুর মুখে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে হসপিটলারে বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী ও তার পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, গলায় কিছু একটা আটকে দম বন্ধ হয়ে আসছে এমন সমস্যা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবে তাছলিমা বেগমকে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে তাঁর গলার এক্স-রে করানো হলে কোন সমস্যা চিহ্নিত হয়নি বলে হসপিটাল সংশ্লিষ্টরা স্বজনদের জানান।
কিন্তু তাছলিমা বেগমের দম বন্ধ (শ^াস-প্রশ^াস বন্ধ) হয়ে আসায় তার পরিবারের লোকজন জরুরিভিত্তিতে কুমিল্লার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর গলা থেকে একটি ক্যাপ বের করা হয়। যেই ক্যাপটি তাঁর দাঁতে লাগানো ছিল। ওইদিন তিনি দুপুরে যখন ঘুমিয়েছিলেন তখন ঘুমন্ত অবস্থায় দাঁতের ক্যাপটি তার গলার ভিতরে চলে যায়।

এ বিষয়ে তাছলিমা বেগমের মেয়ে নাছরিন আক্তার রেশমা জানান, ওই দিনে বিকালে মায়ের দম বন্ধ হয়ে আসায় তাকে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবে নিয়ে যাই। আমি ডাক্তারের খোঁজ করতেছি। তখন ডাক্তার অপারেশনের ওটিতে ছিলেন। যেখানে আমি বার বার বলছি আমার মাকে দেখার জন্য কিন্তু ওটিতে থাকা লোকেরা বলছে স্যার অপারেশন করছে।

তিনি বলেন, তারপর ডাক্তার ওটি থেকে বের হয়ে এসে বলছে কি হয়েছে এখানে, এতো চিল্লাচিল্লি কিসের। আমরা বল্লাম ডাক্তার সাহেব আমার মাকে একটু দেখেন, তখন তিনি বলেন এক্সরে ছাড়া আমি রোগী দেখবো না। ওই সময়ে আমার খালাতো ভাই (সংবাদকর্মী) শাখাওয়াত হোসেন শামীম সাথে ছিলেন।

এরপর ৩ বার এক্সরে করানোর পর হাসপাতালের লোকজন আমাকে ও আমার খালাতে ভাইকে কম্পিউটারে জুম (বড়) এবং প্রিন্ট করে এক্সরে রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, ওনার (আমার মায়ের) গলায় কোন কিছু আটকানো নেই। এক্সরে রুমের লোকেরা বলতেছে এটা ওনার মনের সমস্যা।
কিন্তুু আমার মা চিংকার করে বলছে আমি দম নিতে পারছি না। পরে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে মাকে কুমিল্লায় নিয়ে যাই। সেখানে মায়ের গলা থেকে একটি ক্যাপ বের করা হয়। অথচ তাদের ভুল তথ্যে আমার মা মরতে বসেছিল!

এ বিষয়ে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবের চেয়ারম্যান ডা. রাইসুল ইসলাম রুবেলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই দিন তারা (তাছলিমা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা) এক্স-রে করানোর পর রিপোর্ট না নিয়ে শুধুমাত্র এক্স-রে কপিটি নিয়ে চলে যায়। এমনকি ওই এক্স-রে কপিটি আমাকে বা হসপিটালের কোনো চিকিৎসককে তারা দেখায়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে গোল্ডেন হসপিটালে ভুল রিপোর্ট ! অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী | Rknews71

আপডেট : ০৪:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

 
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ ||
হাজীগঞ্জ বাজারস্থ গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবের ভুল রিপোর্টে তাছলিমা বেগম (৪২) নামের এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী মৃত্যুর মুখে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে হসপিটলারে বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী ও তার পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, গলায় কিছু একটা আটকে দম বন্ধ হয়ে আসছে এমন সমস্যা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবে তাছলিমা বেগমকে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখানে তাঁর গলার এক্স-রে করানো হলে কোন সমস্যা চিহ্নিত হয়নি বলে হসপিটাল সংশ্লিষ্টরা স্বজনদের জানান।
কিন্তু তাছলিমা বেগমের দম বন্ধ (শ^াস-প্রশ^াস বন্ধ) হয়ে আসায় তার পরিবারের লোকজন জরুরিভিত্তিতে কুমিল্লার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর গলা থেকে একটি ক্যাপ বের করা হয়। যেই ক্যাপটি তাঁর দাঁতে লাগানো ছিল। ওইদিন তিনি দুপুরে যখন ঘুমিয়েছিলেন তখন ঘুমন্ত অবস্থায় দাঁতের ক্যাপটি তার গলার ভিতরে চলে যায়।

এ বিষয়ে তাছলিমা বেগমের মেয়ে নাছরিন আক্তার রেশমা জানান, ওই দিনে বিকালে মায়ের দম বন্ধ হয়ে আসায় তাকে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবে নিয়ে যাই। আমি ডাক্তারের খোঁজ করতেছি। তখন ডাক্তার অপারেশনের ওটিতে ছিলেন। যেখানে আমি বার বার বলছি আমার মাকে দেখার জন্য কিন্তু ওটিতে থাকা লোকেরা বলছে স্যার অপারেশন করছে।

তিনি বলেন, তারপর ডাক্তার ওটি থেকে বের হয়ে এসে বলছে কি হয়েছে এখানে, এতো চিল্লাচিল্লি কিসের। আমরা বল্লাম ডাক্তার সাহেব আমার মাকে একটু দেখেন, তখন তিনি বলেন এক্সরে ছাড়া আমি রোগী দেখবো না। ওই সময়ে আমার খালাতো ভাই (সংবাদকর্মী) শাখাওয়াত হোসেন শামীম সাথে ছিলেন।

এরপর ৩ বার এক্সরে করানোর পর হাসপাতালের লোকজন আমাকে ও আমার খালাতে ভাইকে কম্পিউটারে জুম (বড়) এবং প্রিন্ট করে এক্সরে রিপোর্ট দেখিয়ে বলেন, ওনার (আমার মায়ের) গলায় কোন কিছু আটকানো নেই। এক্সরে রুমের লোকেরা বলতেছে এটা ওনার মনের সমস্যা।
কিন্তুু আমার মা চিংকার করে বলছে আমি দম নিতে পারছি না। পরে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে মাকে কুমিল্লায় নিয়ে যাই। সেখানে মায়ের গলা থেকে একটি ক্যাপ বের করা হয়। অথচ তাদের ভুল তথ্যে আমার মা মরতে বসেছিল!

এ বিষয়ে গোল্ডেন হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ল্যাবের চেয়ারম্যান ডা. রাইসুল ইসলাম রুবেলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই দিন তারা (তাছলিমা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা) এক্স-রে করানোর পর রিপোর্ট না নিয়ে শুধুমাত্র এক্স-রে কপিটি নিয়ে চলে যায়। এমনকি ওই এক্স-রে কপিটি আমাকে বা হসপিটালের কোনো চিকিৎসককে তারা দেখায়নি।