মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ ||
হাজীগঞ্জে সাময়িক উত্তেজনা ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। উপজেলা ও পৌর যুবদলের আয়োজনে শনিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় গ্রামে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালী, কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জি. মমিনুল হক। এদিন বিকালে র্যালীটি স্বর্ণকলি কেজি স্কুলের সম্মুখ থেকে বের হয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে হাজীগঞ্জ বাজারের দিকে যায়।
এরপর হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ হাজীগঞ্জ সেতুর সামনে গেলে যুবদলের কিছু উশৃঙ্খল কর্মী দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশের ৫ সদস্য ও টিয়ারশেলে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা আহত হয়। এর মধ্যে যুবদলের নেতবৃন্দ তাদের দলীয় কর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে চলে আসেন।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আকতার হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ইঞ্জি. মমিনুল হক বলেন, আজকের প্রোগ্রামে কোন সহিংসতার সুযোগ ছিল না। আজকে আমরা একেবারেই শান্ত। আমাদের একটা জন্মবার্ষিকী পালনের জন্য আমরা একত্রিত হয়েছি। গতকাল শাহরাস্তিতে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনষ্ঠানে কতিফয় লোক সেখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। তারপরও আমরা সুন্দরভাবে প্রোগ্রাম করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, কিন্তু আজকে-তো (হাজীগঞ্জে) এখানে আওয়ামী লীগের কেউ ছিলনা। আমরা তাদের দোষ দিচ্ছিনা। আজকে প্রশাসনের ভুল বুঝাবুঝির জন্য এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বলবো, আমরা কিন্তু বলেছি, আজকে মিছিল বাজারে যাবে না। ব্রীজ (হাজীগঞ্জ সেতু) থেকে আমরা ব্যক (ফিরে) করবো। সেখান থেকেই আপনাদের ব্যক করা উচিত ছিল। ভবিষ্যতে আপনারা নেতাদের নির্দেশ মানবেন।
ইঞ্জি. মমিনুল হক তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, রিজার্ভের টাকা কি আমরা চিবিয়ে খেয়েছি। কিন্তু এটাতো আমরা কোর্সেন (প্রশ্ন) করিনি। অর্থমন্ত্রী দেশে এখন কথা বলেনা না। পরিকল্পনামন্ত্রী দেশে থাক না। বানিজ্যমন্ত্রী এলসি খুলতে পারেনা। খাদ্যমন্ত্রী অনেক ক্ষেত্রে পলাতক। এইভাবে তারা এখন দেশ চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত তিনমাসে যুক্তরাজ্যে তিনজন প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছে। কারণ, তাদের গণতন্ত্র অত্যন্ত সুদৃঢ়। তারা গণতন্ত্রের প্রতি বিশ^াসী, তারা জনগণের কল্যাণের প্রতি বিশ^াসী। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন, তাই তারা পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন, এটা তিনি বলতে চাননা। তিনি সবসময় বলেন আমি সার্থক হয়েছি।
তিনি বলেন, গত তিনমাসে যুক্তরাজ্যে তিনজন প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছে। কারণ, তাদের গণতন্ত্র অত্যন্ত সুদৃঢ়। তারা গণতন্ত্রের প্রতি বিশ^াসী, তারা জনগণের কল্যাণের প্রতি বিশ^াসী। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন, তাই তারা পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন, এটা তিনি বলতে চাননা। তিনি সবসময় বলেন আমি সার্থক হয়েছি।
আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে ইঞ্জি. মমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী মাইকে উঠলেই বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তন হলে পাঁচ লক্ষ লোক মারা যাবে। কিন্তু আমিতো তা মনে করিনা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় আসলে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি কোন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের লোকের গায়ে হাত দিবে, এরকম কোন কিছু আমি প্রত্যাশা করিনা, করবো না। আমরা হানাহানি ও মারামারি চাইনা।
তিনি বলেন, দেশে দূর্ভিক্ষের যে ঘনঘটা। এটা পুলিশের টিয়ারশেল দিয়ে রক্ষা করা যাবেনা। এ সরকারের নিজের মুখের কথা, এদেশে একটি দূুর্ভিক্ষ অত্যাসন্ন। এই দূর্ভিক্ষ মোকাবেলা করার জন্য পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। তাই প্রধানমন্ত্রী যদি পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করেন।
তিনি আরো বলেন, এ নির্বাচনের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করতে হবে। আর তা হতে হবে আগামি ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসে। তা না হলে, জাতি যে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী কোন অবস্থাতেই কন্ট্রোল করতে পারবেনা। এরপর তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.এ রহিম পাটওয়ারীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির সুমন, পৌর যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান সেলিম ও সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।




















