ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে করোনা পরীক্ষার ল্যাব নেই, রোগী পাঠানো হচ্ছে কুমিল্লায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১১:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
  • 18

 

চাঁদপুরে করোনা পরীক্ষার জন্য আর কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাব কার্যকর নেই। ফলে জেলার মানুষকে এখন উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করাতে কুমিল্লা যেতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং কেউ কেউ উপসর্গ গোপন করতেও বাধ্য হচ্ছেন।

২০২০ সালের ২৭ জুলাই, করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা মোকাবিলায় চাঁদপুরে একটি আরটি-পিসিআর ল্যাব চালু করা হয়। এটি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও ভাষাবীর এম.এ. ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে স্থাপন করা হয়। তবে ল্যাবটি কোনো সরকারি হাসপাতালে নয়, স্থাপন করা হয় একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ল্যাবটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় চাঁদপুর শহরের বেশ কিছু স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়। ওই সময় এই বাসভবনটিও হামলার শিকার হয়। ফলে ল্যাবের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুটপাট এবং আগুনে পুড়ে যায়। এরপর থেকে আর কোনো ল্যাব চালু হয়নি।

বর্তমানে চাঁদপুরে কেউ করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলে তাকে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হচ্ছে কুমিল্লায়। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। রোগী পরিবহন ও পরীক্ষার খরচ বহন করতে না পেরে অনেকে করোনা পরীক্ষা থেকে বিরত থাকছেন।

চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৯৬ জন করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৬৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় মারা গেছেন ২৪৬ জন। যদিও বর্তমানে সংক্রমণের তীব্রতা কম, তবে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে একটি সরকারি আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা শাহিদুল ইসলাম

চাঁদপুরে করোনা পরীক্ষার ল্যাব নেই, রোগী পাঠানো হচ্ছে কুমিল্লায়

আপডেট : ১১:০০:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫

 

চাঁদপুরে করোনা পরীক্ষার জন্য আর কোনো আরটি-পিসিআর ল্যাব কার্যকর নেই। ফলে জেলার মানুষকে এখন উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করাতে কুমিল্লা যেতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং কেউ কেউ উপসর্গ গোপন করতেও বাধ্য হচ্ছেন।

২০২০ সালের ২৭ জুলাই, করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা মোকাবিলায় চাঁদপুরে একটি আরটি-পিসিআর ল্যাব চালু করা হয়। এটি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও ভাষাবীর এম.এ. ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে স্থাপন করা হয়। তবে ল্যাবটি কোনো সরকারি হাসপাতালে নয়, স্থাপন করা হয় একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ল্যাবটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় চাঁদপুর শহরের বেশ কিছু স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়। ওই সময় এই বাসভবনটিও হামলার শিকার হয়। ফলে ল্যাবের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুটপাট এবং আগুনে পুড়ে যায়। এরপর থেকে আর কোনো ল্যাব চালু হয়নি।

বর্তমানে চাঁদপুরে কেউ করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেলে তাকে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হচ্ছে কুমিল্লায়। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। রোগী পরিবহন ও পরীক্ষার খরচ বহন করতে না পেরে অনেকে করোনা পরীক্ষা থেকে বিরত থাকছেন।

চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৯৪ হাজার ৯৬ জন করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৬৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় মারা গেছেন ২৪৬ জন। যদিও বর্তমানে সংক্রমণের তীব্রতা কম, তবে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে একটি সরকারি আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। স্থানীয়ভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।