ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঠখোলায় আজ উদযাপিত হচ্ছে শিব্বিরা মেলা

চাঁদপুর সদর উপজেলার পৌর ১৩নং ওয়ার্ডস্থ মঠখোলায় প্রতিবছরের ন্যায় ঐতিহাসিক শিব্বিরা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ।

প্রতি বছরের চৈত্র মাসের শেষের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের আগের দিন সকালে এ বৈশাখী মেলা বসে থাকে চাঁদপুর শহরতলীর মঠখোলা এলাকায়।

 

মূলত এই মেলার উৎপত্তি হয় মঠখোলা শিবখোলা নামক স্থান থেকে। সেই থেকেই এর নামকরণ করা হয় শিব্বিরা মেলা। আগে শিবখোলা স্থানটিতে মেলা বসলেও কালক্রমে এই মেলা এখন মঠখোলা বাজারেই বসে।

 

আজ এই চৈত্র সংক্রান্তি মেলার দিনে মঠখোলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মঠের শিব ও কালী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনা হবে। এছাড়াও মঠখোলার শিবখোলায় ভক্ত ও পূজারীরা শিব ঠাকুরের মাথায় জল ও দুধ ঢেলে পূজা-অর্চনা করবেন। আজ সকালে এই পূজা-অর্চনায় অংশ নিয়েছেন কয়েক’শ নারী-পুরুষ ভক্ত।

 

মেলায় শোভা পায় বৈশাখী আমেজের বাঁশি, ঢোল, বেলুন, মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া, ফুল, পাখিসহ অসংখ্য বৈশাখী মেলার জিনিসপত্র। আর ওইসব বৈশাখী জিনিস ক্রয় করার জন্য জেলার বিভিন্নস্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন।

 

মঠখোলা বাজারের এই শিব্বিরা মেলার ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন বৃদ্ধ বয়সী লোকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মেলাটি প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে। আমাদের জন্মের পর থেকেই মঠখোলা বাজারে এই বৈশাখী মেলা বসতে দেখি যা এখনো চলমান। একসময় এই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের লোকজন বসবাস বেশি করায় সেখানের শিব গাছ তলায় হিন্দুরা শিব পূজা করতো। মেলাটিও সেই স্থানেই বসতো।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত ও আশেপাশের জায়গা সীমিত হওয়ায় এই মেলাটি এখন মঠখোলা বাজার এবং চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ ঘেষে বসে।

 

এভাবেই দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে চৈত্র সংক্রান্তি তথা পহেলা বৈশাখের আগের দিন মঠখোলা খলিসাডুলী এলাকায় বৈশাখী মেলা উদযাপিত হয়ে আসছে।

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জের বাকিলা খলাপাড়ায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নিখোঁজ, উদ্বেগে স্বজনরা

মঠখোলায় আজ উদযাপিত হচ্ছে শিব্বিরা মেলা

আপডেট : ১১:২১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুর সদর উপজেলার পৌর ১৩নং ওয়ার্ডস্থ মঠখোলায় প্রতিবছরের ন্যায় ঐতিহাসিক শিব্বিরা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ।

প্রতি বছরের চৈত্র মাসের শেষের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের আগের দিন সকালে এ বৈশাখী মেলা বসে থাকে চাঁদপুর শহরতলীর মঠখোলা এলাকায়।

 

মূলত এই মেলার উৎপত্তি হয় মঠখোলা শিবখোলা নামক স্থান থেকে। সেই থেকেই এর নামকরণ করা হয় শিব্বিরা মেলা। আগে শিবখোলা স্থানটিতে মেলা বসলেও কালক্রমে এই মেলা এখন মঠখোলা বাজারেই বসে।

 

আজ এই চৈত্র সংক্রান্তি মেলার দিনে মঠখোলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মঠের শিব ও কালী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনা হবে। এছাড়াও মঠখোলার শিবখোলায় ভক্ত ও পূজারীরা শিব ঠাকুরের মাথায় জল ও দুধ ঢেলে পূজা-অর্চনা করবেন। আজ সকালে এই পূজা-অর্চনায় অংশ নিয়েছেন কয়েক’শ নারী-পুরুষ ভক্ত।

 

মেলায় শোভা পায় বৈশাখী আমেজের বাঁশি, ঢোল, বেলুন, মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া, ফুল, পাখিসহ অসংখ্য বৈশাখী মেলার জিনিসপত্র। আর ওইসব বৈশাখী জিনিস ক্রয় করার জন্য জেলার বিভিন্নস্থান থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন।

 

মঠখোলা বাজারের এই শিব্বিরা মেলার ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন বৃদ্ধ বয়সী লোকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মেলাটি প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে। আমাদের জন্মের পর থেকেই মঠখোলা বাজারে এই বৈশাখী মেলা বসতে দেখি যা এখনো চলমান। একসময় এই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের লোকজন বসবাস বেশি করায় সেখানের শিব গাছ তলায় হিন্দুরা শিব পূজা করতো। মেলাটিও সেই স্থানেই বসতো।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত ও আশেপাশের জায়গা সীমিত হওয়ায় এই মেলাটি এখন মঠখোলা বাজার এবং চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ ঘেষে বসে।

 

এভাবেই দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে চৈত্র সংক্রান্তি তথা পহেলা বৈশাখের আগের দিন মঠখোলা খলিসাডুলী এলাকায় বৈশাখী মেলা উদযাপিত হয়ে আসছে।

আরকে/ সাইফ