ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে বিষ দিয়ে ফসল নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা, কান্না থামছে না মাজেদার

কৃষি জমির ফসল বিষ দিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা, কান্না থামছে না মাজেদা বেগম (৭০) এক নারীর।
নিজের কৃষি জমির ফসলের মরা গাছ বুকে নিয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন মাজেদা। জমির মাটিতে গড়া-গড়ি করে তিনি বলছেন, ‘আমার মরা ছাড়া আর কি উপায় আছে, আমার সব শেষ কইরা দিছেরে। আমার মুখের খানা কাইড়া নিছে।’
বুধবার  (২২ এপ্রিল ২০২৬) ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা পূর্ব  ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় গিয়ে মাজেদা বেগম (৭০) নামের ওই নারীর আর্তনাদ দেখা যায়। পূর্ব শত্রুতার দ্বন্দ্বের জেরে ওই নারীর জমির ফসল বিষ দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর মাজেদা জমিতে গিয়ে সর্বনাশের চিত্র দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
 ভুক্তভোগী মাজেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী আবু  তাহের (৮০)অসুস্থ।  এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে  নিজের ৭০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। এরইমধ্যে বিগত তিন চার বছর যাবত ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ গং অহেতুক আমাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ করে আসছে। সে আমাদের এই ফসলী জমি তার দাবি করে এই পর্যন্ত পাঁচবার আমার জমিনের ফসল বিভিন্নভাবে নষ্ট করে ফেলেছে এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাজারে বিক্রি করেছে। সর্বশেষ গত দুই দিন আগে শহীদুল্লাহ চৌকিদারের ভাই শাহাদাত জমির পাশে আসে এবং বিভিন্ন রকম হুমকি-ধুমতি দিয়ে যায় এর একদিন পরেই গত রাত্রে তারা জমির ফসলগুলো বিষ দিয়ে নষ্ট করে ফেলে।
আমরা এই সম্পত্তি ২০০৭ সালে ১নং বালিথুবা  পশ্চিম ইউনিয়নের খাড়খাদিয়া  গ্রামের মোঃ হাসান মোঃ হোসেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কুদ্দুস ডালি থেকে ৭০ শতাংশ জমি খরিদ করে মালিক হই। শহীদুল্লাহ চৌকিদার বারবার আমাদেরকে জমি থেকে উৎখাত করার জন্য সঙ্ঘবদ্ধ দল নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদেরকে আক্রমণ করে। এবং বারবার হুমকি দেয় আমার স্বামী এবং সন্তানকে যে কোন সময মেরে ফেলবে।
এ বিষয়ে আমরা গত দু’মাস আগে শহীদুল্লাহ চৌকিদার গং দের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করি।
কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাজেদার স্বামী আবু তাহের (৮০)। তিনি বলেন, একবার-দুবার নয় এ পর্যন্ত পাঁচবার আমার ফসলের জমি নষ্ট করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জমির ফসল এ বছর একবারও বিক্রি করিনি। জমির ফসল বিক্রির উপযোগী হলেই শহীদুল্লাহ চৌকিদার ফসলগুলো নষ্ট করে ফেলে। আমার এত টাকার ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে জানি না। আমি অদ্য ২২ এপ্রিল এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ ও তার ভাই শাহাদাত ও সিদ্দিক আলী নামে তিন জনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমার একটা উপযুক্ত ফয়সালা করে দিবেন।
আবু তাহের (৮০) আরো বলেন, আমার একমাত্র ছেলে শাহাদাত একজন পুলিশের সদস্য সে বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত আছে। গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ বিগত একমাস আগে আমার ছেলের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন আমার ছেলের চাঁদপুরে বাড়ি আছে ফ্ল্যাট আছে সে এলাকায় আসলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায় এবং মানুষকে ভয়-ভীতি দেখায়  ,যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন শহীদুল্লাহ এ পর্যন্ত তার কোন প্রমাণ দিতে পারে নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই বলেন গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক সে অহেতুক নানা ভাবে পুলিশ সদস্য শাহাদাতের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। এবং তার পরিবারের সাথে কোন কারণ ছাড়াই  জড়গায় লিপ্ত থাকে এবং হয়রানি করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এজন্য তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জের বাকিলা খলাপাড়ায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নিখোঁজ, উদ্বেগে স্বজনরা

ফরিদগঞ্জে বিষ দিয়ে ফসল নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা, কান্না থামছে না মাজেদার

আপডেট : ০৭:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
কৃষি জমির ফসল বিষ দিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা, কান্না থামছে না মাজেদা বেগম (৭০) এক নারীর।
নিজের কৃষি জমির ফসলের মরা গাছ বুকে নিয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন মাজেদা। জমির মাটিতে গড়া-গড়ি করে তিনি বলছেন, ‘আমার মরা ছাড়া আর কি উপায় আছে, আমার সব শেষ কইরা দিছেরে। আমার মুখের খানা কাইড়া নিছে।’
বুধবার  (২২ এপ্রিল ২০২৬) ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২ নং বালিথুবা পূর্ব  ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় গিয়ে মাজেদা বেগম (৭০) নামের ওই নারীর আর্তনাদ দেখা যায়। পূর্ব শত্রুতার দ্বন্দ্বের জেরে ওই নারীর জমির ফসল বিষ দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর মাজেদা জমিতে গিয়ে সর্বনাশের চিত্র দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
 ভুক্তভোগী মাজেদা বেগম বলেন, আমার স্বামী আবু  তাহের (৮০)অসুস্থ।  এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে  নিজের ৭০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। এরইমধ্যে বিগত তিন চার বছর যাবত ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ গং অহেতুক আমাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ করে আসছে। সে আমাদের এই ফসলী জমি তার দাবি করে এই পর্যন্ত পাঁচবার আমার জমিনের ফসল বিভিন্নভাবে নষ্ট করে ফেলেছে এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বাজারে বিক্রি করেছে। সর্বশেষ গত দুই দিন আগে শহীদুল্লাহ চৌকিদারের ভাই শাহাদাত জমির পাশে আসে এবং বিভিন্ন রকম হুমকি-ধুমতি দিয়ে যায় এর একদিন পরেই গত রাত্রে তারা জমির ফসলগুলো বিষ দিয়ে নষ্ট করে ফেলে।
আমরা এই সম্পত্তি ২০০৭ সালে ১নং বালিথুবা  পশ্চিম ইউনিয়নের খাড়খাদিয়া  গ্রামের মোঃ হাসান মোঃ হোসেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কুদ্দুস ডালি থেকে ৭০ শতাংশ জমি খরিদ করে মালিক হই। শহীদুল্লাহ চৌকিদার বারবার আমাদেরকে জমি থেকে উৎখাত করার জন্য সঙ্ঘবদ্ধ দল নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদেরকে আক্রমণ করে। এবং বারবার হুমকি দেয় আমার স্বামী এবং সন্তানকে যে কোন সময মেরে ফেলবে।
এ বিষয়ে আমরা গত দু’মাস আগে শহীদুল্লাহ চৌকিদার গং দের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করি।
কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাজেদার স্বামী আবু তাহের (৮০)। তিনি বলেন, একবার-দুবার নয় এ পর্যন্ত পাঁচবার আমার ফসলের জমি নষ্ট করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জমির ফসল এ বছর একবারও বিক্রি করিনি। জমির ফসল বিক্রির উপযোগী হলেই শহীদুল্লাহ চৌকিদার ফসলগুলো নষ্ট করে ফেলে। আমার এত টাকার ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে জানি না। আমি অদ্য ২২ এপ্রিল এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ ও তার ভাই শাহাদাত ও সিদ্দিক আলী নামে তিন জনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমার একটা উপযুক্ত ফয়সালা করে দিবেন।
আবু তাহের (৮০) আরো বলেন, আমার একমাত্র ছেলে শাহাদাত একজন পুলিশের সদস্য সে বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত আছে। গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ বিগত একমাস আগে আমার ছেলের বিরুদ্ধে দুদকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন আমার ছেলের চাঁদপুরে বাড়ি আছে ফ্ল্যাট আছে সে এলাকায় আসলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায় এবং মানুষকে ভয়-ভীতি দেখায়  ,যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন শহীদুল্লাহ এ পর্যন্ত তার কোন প্রমাণ দিতে পারে নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকেই বলেন গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহ একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক সে অহেতুক নানা ভাবে পুলিশ সদস্য শাহাদাতের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালায়। এবং তার পরিবারের সাথে কোন কারণ ছাড়াই  জড়গায় লিপ্ত থাকে এবং হয়রানি করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ শহীদুল্লাহর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এজন্য তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।