ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাল উদ্ধার শুধু পরিবেশ নয়, বদলে দেবে হাজীগঞ্জ বাজারের চিত্র

হাজীগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড়ি খাল থেকে পশ্চিমে হাজিগঞ্জ বাজারের স্টেশন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে এখন আর দৃশ্যমান নেই। প্রায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে এর অস্তিত্ব। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাজীগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই খাল আজ যেন শুধুই স্মৃতি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পোস্ট অফিসের সামনে থেকে থানা দক্ষিণ পাশ হয়ে বড় মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে স্টেশন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি ধীরে ধীরে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। খালের বুক চিরে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা, কোথাও আবার মাটি ফেলে সম্পূর্ণ ভরাট করে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে খালের অস্তিত্ব না থাকায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে হাজীগঞ্জ বাজারে। অল্প বৃষ্টিতেই বাজার ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক চলাচল। এদিকে খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। খাল ও কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন যৌথভাবে মাঠে নেমেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম হাজীগঞ্জ বাজারস্থ স্টেশন রোড থেকে বড় মসজিদ ও রজনীগন্ধা মার্কেটের উত্তর পাশ এবং থানা সংলগ্ন (দক্ষিণ পাশ) হয়ে বোয়ালজুড়ি খালের সঙ্গে সংযুক্ত পুরো অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দখলকৃত স্থান চিহ্নিত করেন এবং সিএস, আরএস রেকর্ড ও নকশাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালটির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে প্রশাসনের এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন, ব্যবসায়ী, স্থানীয়, এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধার এবং খনন করা গেলে ফিরবে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, কমবে জলাবদ্ধতা এবং নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পাবে হাজীগঞ্জ বাজার।

জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন সাবেক ২১৩ হাল ৮৩নং মকিমাবাদ মৌজার সাবেক সিএস ও নকশা অনুযায়ী ২০৩১ ও ২১৬৪ দাগে ৫৬ শতাংশ খাল রয়েছে। কিন্তু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে খালের অস্তিত্ব নেই। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ প্রভাবশালীদের দখল রয়েছে। বাকি অংশ বাজারের আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এখনো দখল ও আবর্জনা ফেলে ভরাট কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সম্প্রতি বাধা উপেক্ষা করে খালের উপর বর্তমানে ভরাটকৃত অংশে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কর্তৃপক্ষ পানির ট্যাংক রাখার জন্য পাকাস্থাপনা নির্মান করেছেন। এমন অভিযোগ করেছেন, পৌর ভূমি অফিসের কর্তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ সরকারি কিংবা অন্য কারো ভূমি দখল করে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করেনি। সম্প্রতি যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। বিএস মূলে কমপ্লেক্সের মালিকীয় সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর ভূমি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান মুন্সী বলেন, সিএস ও নকশা অনুযায়ী ২১৩নং হাল ৮৩নং মকিমাবাদ মৌজার ২০৩১ ও ২১৬৪ দাগে খাল উল্লেখপূর্বক সরকারি ৫৬ শতক ভূমি রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, খাল ও কৃষি জমি রক্ষায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। যার ফলে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় অধিকাংশ উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচী শুরু হয়েছে। আমরাও হাজীগঞ্জ উপজেলায় খাল খনন ও দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জের বাকিলা খলাপাড়ায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নিখোঁজ, উদ্বেগে স্বজনরা

খাল উদ্ধার শুধু পরিবেশ নয়, বদলে দেবে হাজীগঞ্জ বাজারের চিত্র

আপডেট : ০৮:১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

হাজীগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড়ি খাল থেকে পশ্চিমে হাজিগঞ্জ বাজারের স্টেশন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে এখন আর দৃশ্যমান নেই। প্রায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে এর অস্তিত্ব। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাজীগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এই খাল আজ যেন শুধুই স্মৃতি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পোস্ট অফিসের সামনে থেকে থানা দক্ষিণ পাশ হয়ে বড় মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে স্টেশন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি ধীরে ধীরে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। খালের বুক চিরে গড়ে উঠেছে দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা, কোথাও আবার মাটি ফেলে সম্পূর্ণ ভরাট করে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে খালের অস্তিত্ব না থাকায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে হাজীগঞ্জ বাজারে। অল্প বৃষ্টিতেই বাজার ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক চলাচল। এদিকে খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। খাল ও কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন যৌথভাবে মাঠে নেমেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম হাজীগঞ্জ বাজারস্থ স্টেশন রোড থেকে বড় মসজিদ ও রজনীগন্ধা মার্কেটের উত্তর পাশ এবং থানা সংলগ্ন (দক্ষিণ পাশ) হয়ে বোয়ালজুড়ি খালের সঙ্গে সংযুক্ত পুরো অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দখলকৃত স্থান চিহ্নিত করেন এবং সিএস, আরএস রেকর্ড ও নকশাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালটির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।

এদিকে প্রশাসনের এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন, ব্যবসায়ী, স্থানীয়, এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে খালটি পুনরুদ্ধার এবং খনন করা গেলে ফিরবে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, কমবে জলাবদ্ধতা এবং নতুন রূপে প্রাণ ফিরে পাবে হাজীগঞ্জ বাজার।

জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন সাবেক ২১৩ হাল ৮৩নং মকিমাবাদ মৌজার সাবেক সিএস ও নকশা অনুযায়ী ২০৩১ ও ২১৬৪ দাগে ৫৬ শতাংশ খাল রয়েছে। কিন্তু কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে খালের অস্তিত্ব নেই। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ প্রভাবশালীদের দখল রয়েছে। বাকি অংশ বাজারের আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এখনো দখল ও আবর্জনা ফেলে ভরাট কার্যক্রম চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।

সম্প্রতি বাধা উপেক্ষা করে খালের উপর বর্তমানে ভরাটকৃত অংশে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কর্তৃপক্ষ পানির ট্যাংক রাখার জন্য পাকাস্থাপনা নির্মান করেছেন। এমন অভিযোগ করেছেন, পৌর ভূমি অফিসের কর্তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ কমপ্লেক্সের মোতওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহমেদ বলেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ সরকারি কিংবা অন্য কারো ভূমি দখল করে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করেনি। সম্প্রতি যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। বিএস মূলে কমপ্লেক্সের মালিকীয় সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পৌর ভূমি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান মুন্সী বলেন, সিএস ও নকশা অনুযায়ী ২১৩নং হাল ৮৩নং মকিমাবাদ মৌজার ২০৩১ ও ২১৬৪ দাগে খাল উল্লেখপূর্বক সরকারি ৫৬ শতক ভূমি রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন জানান, খাল ও কৃষি জমি রক্ষায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। যার ফলে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় অধিকাংশ উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচী শুরু হয়েছে। আমরাও হাজীগঞ্জ উপজেলায় খাল খনন ও দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছি।