ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে অসহায় নরসুন্দর দম্পতির একটি ঘরের জন্য আকুতি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ইউনিয়নের ৭  নং ওয়ার্ডের জয়শ্রী গ্রামের শীল বাড়ির এক কোণে আজও লুকিয়ে আছে এক অশ্রুসিক্ত আর্তনাদ যা দেখার কেউ নেই, শোনার ও কেউ নেই। সেই আর্তনাদের নাম নরসুন্দর মহারাজ দম্পতির  পরিবার। জীবনের নির্মম বাস্তবতা যেন তাদের  প্রতিনিয়ত আঘাত করে চলেছে।
মানুষের ন্যূনতম চাহিদা যেখানে একটি নিরাপদ আশ্রয়, সেখানে তার ঘর বলতে আছে শুধু কয়েকটি বাসের খুঁটি আর  জরাজীর্ণ টিনের  ছাউনি। একটু বাতাস এলেই কেঁপে ওঠে, আর বৃষ্টি নামলেই সেই ঘর পরিণত হয় পানিতে। এ যেন পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া শেওলার মতো এক অসহায় আশ্রয়স্থল। ঘরের ভেতরেই ঝরে পড়ে বৃষ্টির পানি, ভিজে যায় বিছানা, খাবার।  স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে মহারাজের পরিবার। পেশায় একজন নরসুন্দর (নাপিত)। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
তার উপর শারীরিক অসুস্থতা তাকে আরও করে তুলেছে দুর্বল ও অসহায়। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি, তবুও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। বর্ষা এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে সীমাহীন কষ্ট। বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
এই অসহায় দম্পত্তির একটাই আকুতি একটি নিরাপদ ঘর। অন্তত বৃষ্টির রাতে ভিজবে না, যেখানে তার স্ত্রী একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, আর যেখানে তিনি নিজের অসুস্থ শরীর নিয়ে একটু শান্তি খুঁজে পাবেন।
অসহায় শ্রী মহারাজ শীল আশাবাদী হয়ত একদিন তার ভাগ্যেও জুটবে একটি ঘর, যেখানে তিনি মাথা উঁচু করে বলতে পারবেন এটাই আমার ঠিকানা। তাই শ্রী মহারাশীল দম্পতি সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, যেকোনো সরকারি সহায়তার মাধ্যমে যেন তাকে একটি বসবাসযোগ্য ঘর প্রদান করা হয়।
শ্রী মহারাজের শীলের  স্ত্রী লিলু রানী শীল কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, অসুস্থ স্বামী নিয়ে ঘরহীন আমার বসবাস। আমাদের ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। একটি ঘর হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম। আমাদের একটিমাত্র মেয়ে সন্তান তাকে দিয়ে দিয়েছি বরিশাল ভোলা। পুত্র সন্তান না থাকার কারণে আরো অসহায়ত্ব হয়ে পড়েছি।
এই নরসুন্দর দম্পতির জীবন জীবিকা নিয়ে মহাসংকটের মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের জীবন ধারণের লড়াই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তারা সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা নজরুল ইসলামকে রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান চান সমর্থকরা

ফরিদগঞ্জে অসহায় নরসুন্দর দম্পতির একটি ঘরের জন্য আকুতি

আপডেট : ০৬:৪২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ইউনিয়নের ৭  নং ওয়ার্ডের জয়শ্রী গ্রামের শীল বাড়ির এক কোণে আজও লুকিয়ে আছে এক অশ্রুসিক্ত আর্তনাদ যা দেখার কেউ নেই, শোনার ও কেউ নেই। সেই আর্তনাদের নাম নরসুন্দর মহারাজ দম্পতির  পরিবার। জীবনের নির্মম বাস্তবতা যেন তাদের  প্রতিনিয়ত আঘাত করে চলেছে।
মানুষের ন্যূনতম চাহিদা যেখানে একটি নিরাপদ আশ্রয়, সেখানে তার ঘর বলতে আছে শুধু কয়েকটি বাসের খুঁটি আর  জরাজীর্ণ টিনের  ছাউনি। একটু বাতাস এলেই কেঁপে ওঠে, আর বৃষ্টি নামলেই সেই ঘর পরিণত হয় পানিতে। এ যেন পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া শেওলার মতো এক অসহায় আশ্রয়স্থল। ঘরের ভেতরেই ঝরে পড়ে বৃষ্টির পানি, ভিজে যায় বিছানা, খাবার।  স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে মহারাজের পরিবার। পেশায় একজন নরসুন্দর (নাপিত)। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।
তার উপর শারীরিক অসুস্থতা তাকে আরও করে তুলেছে দুর্বল ও অসহায়। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি, তবুও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন। বর্ষা এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে সীমাহীন কষ্ট। বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
এই অসহায় দম্পত্তির একটাই আকুতি একটি নিরাপদ ঘর। অন্তত বৃষ্টির রাতে ভিজবে না, যেখানে তার স্ত্রী একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, আর যেখানে তিনি নিজের অসুস্থ শরীর নিয়ে একটু শান্তি খুঁজে পাবেন।
অসহায় শ্রী মহারাজ শীল আশাবাদী হয়ত একদিন তার ভাগ্যেও জুটবে একটি ঘর, যেখানে তিনি মাথা উঁচু করে বলতে পারবেন এটাই আমার ঠিকানা। তাই শ্রী মহারাশীল দম্পতি সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, যেকোনো সরকারি সহায়তার মাধ্যমে যেন তাকে একটি বসবাসযোগ্য ঘর প্রদান করা হয়।
শ্রী মহারাজের শীলের  স্ত্রী লিলু রানী শীল কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, অসুস্থ স্বামী নিয়ে ঘরহীন আমার বসবাস। আমাদের ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। একটি ঘর হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম। আমাদের একটিমাত্র মেয়ে সন্তান তাকে দিয়ে দিয়েছি বরিশাল ভোলা। পুত্র সন্তান না থাকার কারণে আরো অসহায়ত্ব হয়ে পড়েছি।
এই নরসুন্দর দম্পতির জীবন জীবিকা নিয়ে মহাসংকটের মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের জীবন ধারণের লড়াই অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তারা সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছে।