চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১১ নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন বেপারী বাড়ির অসহায় দিনমজুর হাজীগঞ্জ বাজারে সড়কের পাশে অবস্থিত ফুটপাতে বসে পান বিক্রেতা ইমান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ভালোবেসে প্রেমের টানে ছুটে আসে চাঁদপুর সদর থানার বাবুরহাট স্কুলের পাশে ভাড়া বাসায় থাকা ইসমাইল হোসেন ও মানছুরা বেগমের মেয়ে রিমা আক্তার।
জানা যায়, রিমা আক্তার ও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তাদের চাঁদপুর কোর্ট এর মাধ্যমে প্রথমবার ২০২৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর পর থেকেই এই দুই পরিবারের মধ্যে লেগে যায় যেন যুদ্ধ। মেয়ের পরিবার তাদের মেয়েকে কিছুতেই এই ছেলের ঘর করতে দিবে না। তার জন্য বহুবার বৈঠক করে খোলা তালাকের মাধ্যমে নিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে অসহায় বাবার ছেলে সাইফুল ইসলামকে বুঝিয়ে শুনিয়ে এই মেয়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। পরে তারা তাদের মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পরও। মেয়ে রিমা আক্তার যেন কোন কিছুতেই বুজ নিচ্ছে না। শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে একাধিকবার এই ছেলের কাছে ছুটে আসে। পরে তারা দুজন আবার দ্বিতীয়বারের মতো ২০২৬ সালে পুনরায় চাঁদপুর কোর্টে গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এতে করে কূলকিনার না পেয়ে মেয়ের মা মানছুরা বেগম কোর্টে বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করে মেয়ের জামাইকে কারাগারে রেখেছে।
অসহায় ছেলের মা বুলু বেগম বলেন, আমার নিরপরাধ ছেলেটিকে তার শাশুড়ি অপহরণ মামলা দিয়ে কারাগারে জেল খাটাচ্ছে। তার মেয়ে তারা বন্দী করে রাখতে পারেনা, ছুটে আসে আমার ছেলের কাছে। আমার ছেলে পাত্তা না দিলে মেয়ে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকি দিলে আমরা বাধ্য হই তাকে আশ্রয় দিতে। অথচ আমার বেয়াইন, বেয়াই, ওফুতরা আমাদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার করে কোর্টের মাধ্যমে মামলা দেয়। তাদের মেয়েকে নাকি আমার ছেলে অপহরণ করেছে। অথচ আমার ছেলে একবারের জন্য তাদের আঙ্গিনায়ও যায়নি। তারা মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে আমার ছেলেকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। তাদের মেয়ে রিমা আক্তার আমার ছেলেকে এখনো কারাগারে গিয়ে বার বার দেখে আসছে। যদি মেয়েকে অপহরণ করতো তাহলে কি ওই মেয়ে গিয়ে আবার কোর্ট ছেলেকে দেখতে যেত। এটা আমার প্রশ্ন প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার অসহায় ছেলেকে কারাগার থেকে ছাড়ার জন্য বিচার চাই।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ও ১১ নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া যুবদলের সভাপতি মো. শাহ আলম বেপারী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা এলাকাবাসীসহ সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব আকবার হোসেন কন্টাকটার, বিল্লাল হোসেন মেম্বার, হাজীগঞ্জ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি নিয়ে বহুবার বসার পরও কোন সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। তার মূল কারণ মেয়েটি ছেলেটির জন্য পাগলের মত ভালোবাসে এবং তার পরিবার যতবারই তাকে ছেলের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। তারপরে এক দুই দিন রাখতে পারলেও অবশেষে আবার সে ছুটে আসে এই ছেলের কাছে। এতে করে আমরা ছেলে সাইফুল ইসলামের কোন দোষ খুঁজে পাইনি। অথচ এখন শুনি মেয়ের মা কোর্টে অপহরণ মামলা দিয়ে এই অসহায় ছেলেটিকে কারাগারে রেখেছে।
ছেলের বাবা অসহায় দিনমজুর হকার মোহাম্মদ ইমান হোসেন বলেন, আমার ছেলের শাশুড়ি (আমার বেয়াইন) মানসুরা বেগম, আমার ছেলে সহ আমাদের নামে একে একে তিনটি মামলা দায়ের করে। চাঁদপুর কোর্টে মামলা, চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করে। এই মেয়ের কারণে আমার সহায় সম্বল বলতে তেমন আর কিছুই নেই। যেটুকু ছিল এক ছেলে ও ছেলের বউয়ের কারণে সবকিছু শেষ। ২০২৩ সাল থেকে অদ্যাবধি থানা কোর্ট এবং এলাকার বিভিন্ন সময় সালিশ বৈঠকে আমি একেবারে তন্তুহারা হয়ে পড়ছি। বর্তমানে হাজীগঞ্জ বাজারে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পান সুপারি বিক্রি করে জীবনযাপন করছি। আমি এই মিথ্যা অপহরণ মামলা ও আমার ছেলেকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
মেয়ে রিমা আক্তারের মাকে মোবাইলে ফোন দেওয়ার পর তিনি বলেন, আমি নামাজের ওযু করেছি। নামাজ পড়ে আপনাকে কল দেব। নামাজ শেষ করে মুঠোফোনে কল দিয়ে বলেন, বাবা আমার ছেলে মো. মামুন হোসেন এর সাথে কথা বলেন। এরপর শুরু হয় কথোপকথন একপর্যায়ে তিনি সংবাদ কর্মীকে বলেন, ভাই আমার বোনকে আমরা মরে গেলেও ওদের ঘরে দিব না। ওদের সাথে আমাদের কোন দিক দিয়ে যায় না। আমরা আইনের মাধ্যমে বোঝাপড়া করব, আর কোথাও বসবো না। কোটের মাধ্যমেই এটা সমাধান হবে।




















