প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক বিতর্কিত ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের সুবিদপুর গ্রামের মিজি বাড়ির লোকমানের ছেলে রিয়াদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন বিকৃত ছবি, ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও কটূক্তিমূলক লেখা নিয়মিত শেয়ার করে আসছেন। এর মধ্যে “খাম্বা আছে, কারেন্ট নাই”, “এই সরকারের দরকার নাই” ধরনের বক্তব্যসহ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন এডিট করা ও বিকৃত ছবি পোস্ট করতে দেখা গেছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শরীরে বিভিন্ন কার্ড সংযুক্ত করে তৈরি করা বিকৃত ছবিও শেয়ার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রিয়াদের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় তিনি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ছবি ও মিছিলের কার্যক্রম শেয়ার করেছেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি শিবির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবী তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব জুয়েল রানা তালুকদার বলেন,
“গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দার সাথে লক্ষ্য করছি, একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকৃতিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট ছড়িয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এ ধরনের নোংরা ষড়যন্ত্র শুধু একজন নেতার বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও কোটি মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আঘাত।
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা এই ঘৃণ্য অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। ইতিহাস সাক্ষী, ষড়যন্ত্র আর মিথ্যাচার দিয়ে কখনোই জননেতার জনপ্রিয়তা দমিয়ে রাখা যায়নি। দেশনায়ক তারেক রহমান আজ বাংলার মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন, আর সেই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি স্বার্থান্বেষী মহল বারবার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে সকল নেতাকর্মী ও দেশপ্রেমিক জনতাকে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তবে অভিযুক্ত রিয়াদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শিবিরের স্থানীয় এক সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো পোস্ট করলে তার দায় সংগঠন নেবে না। সংগঠনের নীতির বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে সেটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বলছেন তার এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ না হলে অতি দ্রুতই এটি সংঘর্ষের রূপ নেবে।


























