ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিচল ট্রাফিক সদস্যরা

ট্রাফিক পুলিশ—তাদের দেখা যায় প্রতিদিন ব্যস্ত সড়কের মোড়ে, এক হাতে সিগনাল আর অন্য হাতে দায়িত্বের ভার। তারা যেখানে দাঁড়ান, সেখানেই যেন শহর থেমে শিখে নেয় শৃঙ্খলা। কিন্তু কখনো কি আমরা ভাবি, এই কঠিন ডিউটির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকি আর কষ্টের কথা?

প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ হয়তো ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান, কেউ বাইকের নিচে চাপা পড়েন, কেউবা কোনো বেপরোয়া অটোর চাকায় টেনে নিয়ে যান হারিয়ে অজানায়।
ডকুমেন্ট চেক করার সময় হঠাৎই বাইকার উঠে পড়েন ট্রাফিক সদস্যের গায়ের উপর দিয়ে, পালিয়ে যান নিজের পথ ধরে, আর রাস্তার পাশে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকেন একজন সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের নীরব সৈনিক।

তীব্র রোদে পিচঢালা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে তাদের শরীর ভিজে ওঠে ঘামে—২-৩ মিনিটেই ঝরে পড়ে পরিশ্রমের ফল। সেই ঘাম আবার পরের মিনিটেই শুকিয়ে যায়, কিন্তু কষ্টের চিহ্ন রয়ে যায় শরীরজুড়ে। গরম, ধুলোবালি, হর্নের তীব্র শব্দ কিংবা হঠাৎ ঝেঁপে আসা বৃষ্টি—কিছুই থামাতে পারে না এই মানুষগুলোকে।

দিন শেষে অনেকে ঘরে ফেরেন না। কেউ ফিরলেও বুকে বাসা বাঁধে উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রাণঘাতী রোগ। অথচ শহরের মানুষ প্রতিদিন স্বস্তিতে রাস্তায় চলতে পারেন এই মানুষগুলোর কারণেই।

তাদের নেই কোনো বিলাসিতা, নেই আলাদা আলো কিংবা সম্মাননা। আছে শুধু কড়া রোদে পোড়া মুখ আর মাটির মতো এক বুক দায়িত্ব।

এই শহরের প্রতিটি নিয়ন্ত্রিত মোড়েই একেকজন ট্রাফিক সদস্য দাঁড়িয়ে থাকেন যেন সড়কের প্রহরী হয়ে।
আমরা যখন ছুটে চলি নিজের গন্তব্যে, তারা তখন নিরব প্রহরী হয়ে থাকেন অন্যের জীবনের নিরাপত্তার জন্য।

আজ, একটিবার থেমে তাকাই তাদের দিকে।
দেই অন্তত একটি শ্রদ্ধাভরা সালাম—শহরের সত্যিকারের নায়ক, ট্রাফিক পুলিশদের প্রতি।

সম্মান দিন তাদের, যাদের ঘামে প্রতিদিন নিরাপদ থাকে আমাদের পথ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটো থেকে পড়ে নারীর মৃ”ত্যু

জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিচল ট্রাফিক সদস্যরা

আপডেট : ০৫:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

ট্রাফিক পুলিশ—তাদের দেখা যায় প্রতিদিন ব্যস্ত সড়কের মোড়ে, এক হাতে সিগনাল আর অন্য হাতে দায়িত্বের ভার। তারা যেখানে দাঁড়ান, সেখানেই যেন শহর থেমে শিখে নেয় শৃঙ্খলা। কিন্তু কখনো কি আমরা ভাবি, এই কঠিন ডিউটির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকি আর কষ্টের কথা?

প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কেউ হয়তো ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান, কেউ বাইকের নিচে চাপা পড়েন, কেউবা কোনো বেপরোয়া অটোর চাকায় টেনে নিয়ে যান হারিয়ে অজানায়।
ডকুমেন্ট চেক করার সময় হঠাৎই বাইকার উঠে পড়েন ট্রাফিক সদস্যের গায়ের উপর দিয়ে, পালিয়ে যান নিজের পথ ধরে, আর রাস্তার পাশে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকেন একজন সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের নীরব সৈনিক।

তীব্র রোদে পিচঢালা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে তাদের শরীর ভিজে ওঠে ঘামে—২-৩ মিনিটেই ঝরে পড়ে পরিশ্রমের ফল। সেই ঘাম আবার পরের মিনিটেই শুকিয়ে যায়, কিন্তু কষ্টের চিহ্ন রয়ে যায় শরীরজুড়ে। গরম, ধুলোবালি, হর্নের তীব্র শব্দ কিংবা হঠাৎ ঝেঁপে আসা বৃষ্টি—কিছুই থামাতে পারে না এই মানুষগুলোকে।

দিন শেষে অনেকে ঘরে ফেরেন না। কেউ ফিরলেও বুকে বাসা বাঁধে উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্রাণঘাতী রোগ। অথচ শহরের মানুষ প্রতিদিন স্বস্তিতে রাস্তায় চলতে পারেন এই মানুষগুলোর কারণেই।

তাদের নেই কোনো বিলাসিতা, নেই আলাদা আলো কিংবা সম্মাননা। আছে শুধু কড়া রোদে পোড়া মুখ আর মাটির মতো এক বুক দায়িত্ব।

এই শহরের প্রতিটি নিয়ন্ত্রিত মোড়েই একেকজন ট্রাফিক সদস্য দাঁড়িয়ে থাকেন যেন সড়কের প্রহরী হয়ে।
আমরা যখন ছুটে চলি নিজের গন্তব্যে, তারা তখন নিরব প্রহরী হয়ে থাকেন অন্যের জীবনের নিরাপত্তার জন্য।

আজ, একটিবার থেমে তাকাই তাদের দিকে।
দেই অন্তত একটি শ্রদ্ধাভরা সালাম—শহরের সত্যিকারের নায়ক, ট্রাফিক পুলিশদের প্রতি।

সম্মান দিন তাদের, যাদের ঘামে প্রতিদিন নিরাপদ থাকে আমাদের পথ।