ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে শিশু অ”প’হরণ ও ধ”র্ষ”ণ মামলার প্রধান আসামি শুভজিৎ মন্ডল সাতক্ষীরা থেকে গ্রে’ফ’তা’র

 

নোয়াখালী জেলায় শিশু অপহরণ, ধর্ষণ ও মানবপাচার মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শুভজিৎ মন্ডল (২০) কে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১ এবং র‍্যাব-৬ এর যৌথ আভিযানিক দল।

র‍্যাব-১১ এর সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং র‍্যাব-৬ এর সিপিসি-১, সাতক্ষীরার সমন্বয়ে ২৪ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর থানার মৌতলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শুভজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়, যার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার মজবুখালী গ্রামে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভিকটিম একজন দাখিল শ্রেণির ছাত্রী, যিনি পড়ালেখার পাশাপাশি হেলথকেয়ার পণ্য বিক্রি করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সঙ্গে শুভজিতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৬ মে ২০২৫ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শুভজিৎ ভিকটিমকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় সে ভিকটিমের ঘরে রাখা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়েও চলে যায় ঢাকায়।

পরে তারা ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। ২০ দিনের মধ্যে একাধিকবার ভিকটিমকে জোর করে ধর্ষণ করে শুভজিৎ। এরপর ২৭ মে সে ভিকটিমকে নিয়ে সাতক্ষীরায় যায়, তবে পরিবারের সদস্যরা তাদের গ্রহণ না করায় তারা আবার ঢাকায় ফিরে আসে।

২৮ মে সকালে শুভজিৎ, তার সহযোগী সাব্বিরের বাসায় ভিকটিমকে রেখে যায়। সেখানে থেকে ভিকটিমকে একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভিকটিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোনে তার বোনকে পুরো ঘটনা জানায়। পরবর্তীতে “Protect Our Sister BD” নামক একটি সংগঠন ১৮ জুন তাকে উদ্ধার করে এবং তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। একই দিন ভিকটিমকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপহরণ, ধর্ষণ ও মানবপাচার মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুভজিৎ মন্ডলের অবস্থান শনাক্ত করে এবং সফলভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মামলার অন্য পলাতক আসামি, অপহরণকারী চক্রের সদস্য মোঃ সাব্বিরকে গ্রেফতারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটো থেকে পড়ে নারীর মৃ”ত্যু

নোয়াখালীতে শিশু অ”প’হরণ ও ধ”র্ষ”ণ মামলার প্রধান আসামি শুভজিৎ মন্ডল সাতক্ষীরা থেকে গ্রে’ফ’তা’র

আপডেট : ০৫:১৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

 

নোয়াখালী জেলায় শিশু অপহরণ, ধর্ষণ ও মানবপাচার মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শুভজিৎ মন্ডল (২০) কে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১ এবং র‍্যাব-৬ এর যৌথ আভিযানিক দল।

র‍্যাব-১১ এর সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং র‍্যাব-৬ এর সিপিসি-১, সাতক্ষীরার সমন্বয়ে ২৪ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর থানার মৌতলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শুভজিৎ মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়, যার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার মজবুখালী গ্রামে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভিকটিম একজন দাখিল শ্রেণির ছাত্রী, যিনি পড়ালেখার পাশাপাশি হেলথকেয়ার পণ্য বিক্রি করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সঙ্গে শুভজিতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৬ মে ২০২৫ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শুভজিৎ ভিকটিমকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় সে ভিকটিমের ঘরে রাখা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়েও চলে যায় ঢাকায়।

পরে তারা ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে। ২০ দিনের মধ্যে একাধিকবার ভিকটিমকে জোর করে ধর্ষণ করে শুভজিৎ। এরপর ২৭ মে সে ভিকটিমকে নিয়ে সাতক্ষীরায় যায়, তবে পরিবারের সদস্যরা তাদের গ্রহণ না করায় তারা আবার ঢাকায় ফিরে আসে।

২৮ মে সকালে শুভজিৎ, তার সহযোগী সাব্বিরের বাসায় ভিকটিমকে রেখে যায়। সেখানে থেকে ভিকটিমকে একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভিকটিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোনে তার বোনকে পুরো ঘটনা জানায়। পরবর্তীতে “Protect Our Sister BD” নামক একটি সংগঠন ১৮ জুন তাকে উদ্ধার করে এবং তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। একই দিন ভিকটিমকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অপহরণ, ধর্ষণ ও মানবপাচার মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল।

র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী এর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুভজিৎ মন্ডলের অবস্থান শনাক্ত করে এবং সফলভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। মামলার অন্য পলাতক আসামি, অপহরণকারী চক্রের সদস্য মোঃ সাব্বিরকে গ্রেফতারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।