ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

জাটকা সংরক্ষণে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হল চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল ও মে মাসে জাটকা আহরণে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ চাউল বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৫ জুন চাল বিতরণ কার্যক্রমে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৪৬০ জন নিবন্ধিত জেলেকে জনপ্রতি দুই মাসে ৮০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও, অনেককে ৬৫ থেকে ৭০ কেজির বেশি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই অনিয়মের জন্য সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত হোসেন সরকার মুকুল এবং তার অনুসারীদের।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতেই ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনির স্বাক্ষরে এক অফিস আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাসকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার তারিক মাহমুদ।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সঠিক হিসাব অনুযায়ী চাল প্রাপ্তির দাবি জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গরিব জেলেদের প্রাপ্য নিয়ে কেউ যেন নয়-ছয় করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা দৃঢ় অবস্থানে আছি।
উল্লেখ্য, তদন্ত কার্যক্রম তদারকির জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটো থেকে পড়ে নারীর মৃ”ত্যু

মতলব উত্তরে ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ০৮:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

জাটকা সংরক্ষণে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হল চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল ও মে মাসে জাটকা আহরণে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ চাউল বিতরণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৫ জুন চাল বিতরণ কার্যক্রমে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৪৬০ জন নিবন্ধিত জেলেকে জনপ্রতি দুই মাসে ৮০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও, অনেককে ৬৫ থেকে ৭০ কেজির বেশি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই অনিয়মের জন্য সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখওয়াত হোসেন সরকার মুকুল এবং তার অনুসারীদের।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতেই ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনির স্বাক্ষরে এক অফিস আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাসকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার তারিক মাহমুদ।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনপূর্বক অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জেলেদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সঠিক হিসাব অনুযায়ী চাল প্রাপ্তির দাবি জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গরিব জেলেদের প্রাপ্য নিয়ে কেউ যেন নয়-ছয় করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা দৃঢ় অবস্থানে আছি।
উল্লেখ্য, তদন্ত কার্যক্রম তদারকির জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।