কুমিল্লা জেলা সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের কৃতী সন্তান সাইফুল মালিক (৪৫) আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ, হাজীগঞ্জবাসী, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুম সাইফুল মালিকের বর্তমান পারিবারিক বাসস্থান ছিল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ রোড এলাকায়। তাঁর স্থায়ী বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কূল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহারা গ্রামে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের ছেলে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসানের বড় ভাই।
মেধা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন সাইফুল মালিক। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দিয়ে কুমিল্লা জেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কর্মক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন দক্ষ, সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবিক কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালনে তাঁর আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ তাঁকে সহকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে সম্মানিত করে তুলেছিল। ব্যক্তিজীবনেও তিনি ছিলেন বিনয়ী, সদালাপী ও পরোপকারী একজন মানুষ।
মরহুম সাইফুল মালিক তাঁর সহধর্মিণী, দুই সন্তান, মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, অসংখ্য সহকর্মী, বন্ধু ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে কুমিল্লা জেলা পুলিশ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
মরহুমের মৃত্যুতে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, সাইফুল মালিক ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তাঁর মৃত্যু পুলিশ বাহিনীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
এদিকে তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, সহকর্মী, বন্ধু এবং হাজীগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাঁর স্মৃতিচারণ করে শোকবার্তা প্রকাশ করেন। অনেকেই লিখেছেন, কর্মনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক গুণাবলীর কারণে সাইফুল মালিক সবার কাছে ছিলেন একজন অনুকরণীয় মানুষ।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার কলেজ রোড এলাকা থেকে শুরু করে তাঁর জন্মস্থান নাটেহারা গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্রই বইছে শোকের বাতাস। এলাকার প্রবীণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, সাইফুল মালিক শুধু একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা নন, তিনি ছিলেন হাজীগঞ্জের গর্ব, একজন সজ্জন ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রসেবক। তাঁর অকাল প্রয়াণে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মরহুম সাইফুল মালিককে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন, তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক ধৈর্যের সঙ্গে বহন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাজীগঞ্জের সাইফুল মালিক আর নেই
-
জহিরুল ইসলাম জয় : - আপডেট : ১০:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- 302
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




















