ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চলে গেলেন ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • 41

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের টানা দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন ভাতিজা আদনান হাবীব।

তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা অঙ্গন, রাজনৈতিক মহল এবং নিজ এলাকা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন।

গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শফিকুর রহমান শৈশব থেকেই মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল।

শফিকুর রহমানের শিক্ষাজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি ফরিদগঞ্জের মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে চাঁদপুর কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা হয়ে ওঠে তাঁর পেশাগত জীবনের প্রধান ক্ষেত্র।

মুহম্মদ শফিকুর রহমান দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনের একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৭০ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পত্রিকাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে দৈনিক ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নিয়মিত কলাম লেখায় মনোনিবেশ করেন।

তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দুইবার দায়িত্ব পালন করে সাংবাদিকদের পেশাগত অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে তিনি যুক্তরাজ্য, জাপান ও জার্মানিতে পড়াশোনা করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি একজন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী, সাংবাদিক নেতা ও কলামিস্ট হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আবার সাংবাদিকতা পেশায় ফিরে আসেন। সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে তিনি টানা দুই মেয়াদে জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর নিজ এলাকা ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবায় তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তবে জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মুহম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং ফরিদগঞ্জের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর প্রয়াণে সাংবাদিকতা ও রাজনীতির অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চলে গেলেন ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান

চলে গেলেন ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান

আপডেট : ০৭:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের টানা দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন ভাতিজা আদনান হাবীব।

তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা অঙ্গন, রাজনৈতিক মহল এবং নিজ এলাকা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন।

গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শফিকুর রহমান শৈশব থেকেই মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল।

শফিকুর রহমানের শিক্ষাজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি ফরিদগঞ্জের মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে চাঁদপুর কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা হয়ে ওঠে তাঁর পেশাগত জীবনের প্রধান ক্ষেত্র।

মুহম্মদ শফিকুর রহমান দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনের একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৭০ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পত্রিকাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে দৈনিক ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নিয়মিত কলাম লেখায় মনোনিবেশ করেন।

তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দুইবার দায়িত্ব পালন করে সাংবাদিকদের পেশাগত অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে তিনি যুক্তরাজ্য, জাপান ও জার্মানিতে পড়াশোনা করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি একজন অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী, সাংবাদিক নেতা ও কলামিস্ট হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আবার সাংবাদিকতা পেশায় ফিরে আসেন। সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে তিনি টানা দুই মেয়াদে জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর নিজ এলাকা ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবায় তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

তবে জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মুহম্মদ শফিকুর রহমানের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং ফরিদগঞ্জের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর প্রয়াণে সাংবাদিকতা ও রাজনীতির অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটল।