ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে সহোদর ভাইদের নিষ্ঠুরতার স্বীকার হয়ে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারছেন না অবসরপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড সদস্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৩:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • 35
কর্মজীবনে স্বদেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন তিনি। অথচ অবসর জীবনে সেই মানুষটি নিজেই নির্বিঘ্নে  ঘুমাতে পারছেন না। দুই ভাই দ্বারা অপমান অপদস্ত ও লাঞ্ছিত হয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষার্থে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। এই নিষ্টুরতার শিকার হয়েছেন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া(৬৮)। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পাড়া গাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃত আবদুর রহমান ভূইয়ার ছেলে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান না হওয়ায় ১৫ জুন রবিবার রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
থানায় অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া পরিবারের বড় সন্তান। তিনি বিজিবিতে চাকুরী জীবনে ভাই-বোনদের পড়ালেখার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরেন। একসময় পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বাবলম্বি হলেও শেষ জীবনে নিজ পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। বাড়ির পুকুরের পাশে পুরাতন একটি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। পুকুর পাড় ভাঙ্গনের ফলে বসতঘরটি স্থানান্তরের জন্য চেষ্টা করে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন তিনি। এতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন দুই সহোদর আলতাফ ও জাকির হোসেন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও তা মীমাংসা হয়নি।
মোশারফ হোসেন বলেন, চাকুরী জীবনে বাবার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরেছিলাম। এখন পরিবারের সবাই স্বাবলম্বি হয়েছে। অথচ পুকুর পাড়ে বাবার রেখে যাওয়া ঘরটিতেই থাকতে হচ্ছে আমাকে। ঘরটির মেঝেতে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় তা স্থানান্তরের চেষ্টা করলে আলতাফ ও জাকির হোসেন’র বাঁধার কারনে করতে পারছিনা। পাশে আমার আরেকটি ঘর ছিল, শনিবার (১৪ জুন) দুই ভাই লোকজন নিয়ে ঘরটি ভেঙ্গে দিয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত আলতাফ ও জাকিরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আলতাফের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে, তাই তাদের ঘরটি ভাংচুর করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এবিরোধে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রতিপক্ষরা কিছুদিন পরপর সালিশ বৈঠক ডাকে। আবার তারাই সালিশ মানেনা, তাই সমাধানও হয়না।
স্থানীয়রা জানান, আলতাফ ও জাকির হোসেন দুষ্টু প্রকৃতির লোক। বড় ভাইকে তারা অন্যায়ভাবে হয়রানী করে আসছে।
ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন লিটন বলেন, মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াকে তার দুই ভাই দ্বারা হয়রানি করছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

এমপিও বাতিল, ইনডেক্স কর্তন, টাকা ফেরতের নির্দেশ—তারপরও ‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ মোশাররফ!

ফরিদগঞ্জে সহোদর ভাইদের নিষ্ঠুরতার স্বীকার হয়ে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারছেন না অবসরপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড সদস্য

আপডেট : ০৩:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
কর্মজীবনে স্বদেশের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন তিনি। অথচ অবসর জীবনে সেই মানুষটি নিজেই নির্বিঘ্নে  ঘুমাতে পারছেন না। দুই ভাই দ্বারা অপমান অপদস্ত ও লাঞ্ছিত হয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষার্থে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। এই নিষ্টুরতার শিকার হয়েছেন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া(৬৮)। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পাড়া গাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃত আবদুর রহমান ভূইয়ার ছেলে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান না হওয়ায় ১৫ জুন রবিবার রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
থানায় অভিযোগ ও সরেজমিনে জানা যায়, মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া পরিবারের বড় সন্তান। তিনি বিজিবিতে চাকুরী জীবনে ভাই-বোনদের পড়ালেখার খরচ মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরেন। একসময় পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বাবলম্বি হলেও শেষ জীবনে নিজ পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি। বাড়ির পুকুরের পাশে পুরাতন একটি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। পুকুর পাড় ভাঙ্গনের ফলে বসতঘরটি স্থানান্তরের জন্য চেষ্টা করে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন তিনি। এতে বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন দুই সহোদর আলতাফ ও জাকির হোসেন। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও তা মীমাংসা হয়নি।
মোশারফ হোসেন বলেন, চাকুরী জীবনে বাবার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরেছিলাম। এখন পরিবারের সবাই স্বাবলম্বি হয়েছে। অথচ পুকুর পাড়ে বাবার রেখে যাওয়া ঘরটিতেই থাকতে হচ্ছে আমাকে। ঘরটির মেঝেতে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় তা স্থানান্তরের চেষ্টা করলে আলতাফ ও জাকির হোসেন’র বাঁধার কারনে করতে পারছিনা। পাশে আমার আরেকটি ঘর ছিল, শনিবার (১৪ জুন) দুই ভাই লোকজন নিয়ে ঘরটি ভেঙ্গে দিয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত আলতাফ ও জাকিরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আলতাফের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে, তাই তাদের ঘরটি ভাংচুর করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এবিরোধে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। প্রতিপক্ষরা কিছুদিন পরপর সালিশ বৈঠক ডাকে। আবার তারাই সালিশ মানেনা, তাই সমাধানও হয়না।
স্থানীয়রা জানান, আলতাফ ও জাকির হোসেন দুষ্টু প্রকৃতির লোক। বড় ভাইকে তারা অন্যায়ভাবে হয়রানী করে আসছে।
ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন লিটন বলেন, মোশারফ হোসেন ভূঁইয়াকে তার দুই ভাই দ্বারা হয়রানি করছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।