ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলবে যুবকের রহস্যজনক মৃ*ত্যু : পরিবারের অভিযোগ হ*ত্যা

  • সুমন আহমেদ
  • আপডেট : ০৮:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • 74

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় রিপন প্রধান (২৭) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত রিপন প্রধান মতলব উত্তর উপজেলার লবাইর কান্দি গ্রামের আনামত উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা এলাকার বাসিন্দা। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী এক ছেলে (আপন) রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নাস্তার কথা বলে বের হন রিপন। বিকেল ৪টার দিকে খাদিজা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, রিপন অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন পুরুষ ও একজন মহিলা রিপনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে ভর্তি করানোর পর থেকেই তারা নিখোঁজ হয়ে যান এবং তাদের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের বড় ভাই শাহ আলম (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়িতে আসে। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে তার স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সালিশ হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে আমার ভাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, খাদিজা আক্তারের মামাতো ভাই বিল্লালের সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।

তবে স্ত্রী পক্ষের দাবি, তিনি বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আমার স্বামী আমাদের বাড়িতে এসে সকালে আমাকে কল দিছে বাড়িতে আসার জন্য। আমি বাড়িতে আসার আগেই বিকেলে খবর আসছে স্বামী রিপন কেরির ট্যাবলেট খাইছে।

আমি সিএনজি নিয়ে মতলব হাসপাতালে যাই। স্বামীর অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তাররা  চাঁদপুর হাসপাতালে রেফার করে,তারপর আমি বাড়িতে চলে আসি।

খাদিজার বড় বোন হাওয়া বেগম, রিপন হঠাৎ ঘরে এসে বলতেছে কেরির ট্যাবলেট খাইছে। তারপর আমি এবং আমার ভাতিজা ফাহিমরে সাথে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মতলব হাসপাতাল থেকে চাঁদপুর রেফার করলে আমি সাথে যাই। ডাক্তার রিপনের মৃত্যুর কথা বললে আমি লাশ রেখে চলে আসি।

উল্লেখ্য, নিহতের শ্যালক নুরে আলমের স্ত্রীকে দুই বছর আগে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। নিহতের পরিবার দাবি করছে, একই কায়দায় রিপনকেও হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জের বাকিলা খলাপাড়ায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নিখোঁজ, উদ্বেগে স্বজনরা

মতলবে যুবকের রহস্যজনক মৃ*ত্যু : পরিবারের অভিযোগ হ*ত্যা

আপডেট : ০৮:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় রিপন প্রধান (২৭) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত রিপন প্রধান মতলব উত্তর উপজেলার লবাইর কান্দি গ্রামের আনামত উল্লাহর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা আক্তার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা এলাকার বাসিন্দা। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছর বয়সী এক ছেলে (আপন) রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নাস্তার কথা বলে বের হন রিপন। বিকেল ৪টার দিকে খাদিজা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, রিপন অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, একজন পুরুষ ও একজন মহিলা রিপনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে ভর্তি করানোর পর থেকেই তারা নিখোঁজ হয়ে যান এবং তাদের সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের বড় ভাই শাহ আলম (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাই সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়িতে আসে। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে তার স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সালিশ হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে আমার ভাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, খাদিজা আক্তারের মামাতো ভাই বিল্লালের সাথে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।

তবে স্ত্রী পক্ষের দাবি, তিনি বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, আমার স্বামী আমাদের বাড়িতে এসে সকালে আমাকে কল দিছে বাড়িতে আসার জন্য। আমি বাড়িতে আসার আগেই বিকেলে খবর আসছে স্বামী রিপন কেরির ট্যাবলেট খাইছে।

আমি সিএনজি নিয়ে মতলব হাসপাতালে যাই। স্বামীর অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তাররা  চাঁদপুর হাসপাতালে রেফার করে,তারপর আমি বাড়িতে চলে আসি।

খাদিজার বড় বোন হাওয়া বেগম, রিপন হঠাৎ ঘরে এসে বলতেছে কেরির ট্যাবলেট খাইছে। তারপর আমি এবং আমার ভাতিজা ফাহিমরে সাথে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মতলব হাসপাতাল থেকে চাঁদপুর রেফার করলে আমি সাথে যাই। ডাক্তার রিপনের মৃত্যুর কথা বললে আমি লাশ রেখে চলে আসি।

উল্লেখ্য, নিহতের শ্যালক নুরে আলমের স্ত্রীকে দুই বছর আগে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। নিহতের পরিবার দাবি করছে, একই কায়দায় রিপনকেও হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আরকে/ সাইফ