চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা-এ সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করার সময় ২০ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। পরে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গত তিন দিন—মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার—সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ওয়াকওয়ে, রিসোর্ট এলাকা, বাজার এবং জনসমাগমস্থলে বিশেষ টহল ও অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে দলবদ্ধ অবস্থান ও অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করার কারণে এসব শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। আটকদের অধিকাংশই স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিশোর।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ছিনতাই ও ছোটখাটো বিশৃঙ্খলার অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে এবং নিরাপদে বাসায় ফিরে যায়, সে লক্ষ্যেই তাদের থানায় এনে যাচাই-বাছাই করা হয়।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করা হয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে আনা হয়। পরে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে সন্তানদের সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে না রাখার অঙ্গীকারে মুচলেকা নেওয়া হয়।
ওসি আরও বলেন, “এটি কাউকে হয়রানি করার উদ্যোগ নয়, বরং সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এদিকে, অনেক অভিভাবক পুলিশের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, বর্তমানে কিশোরদের মধ্যে মোবাইল গেম, আড্ডা ও অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরার প্রবণতা বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের এমন তৎপরতায় শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




















