ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে কালভার্ট ভেঙে ফেলছে ইউপি চেয়ারম্যান, দুর্ভোগে স্কুল-মাদরাসা শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবাপূর্ব ইউনিয়নে ৩টি স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এবং ছয়টি বাড়ির মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তার মাঝে থাকা কালভার্টটি ভেঙে ফেলছে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ। গত ৪ মাস পূর্বে  নতুন কালভার্ট নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুরাতন কালভার্টটি ভেঙে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই এই কালভার্টটি এলাকার মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের কারণ।
মঙ্গলবার ( ৫ই মে ২০২৬) সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের দিলাম বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তা হইতে পশ্চিম মুখী মজগুন বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা সড়কের মাঝখানে বহু পুরনো একটি কালভার্ট ছিল। এই সড়ক দিয়ে কয়েকটি বাড়ির শতাধিক শিক্ষার্থী বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিধুবা সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয় এবং অদুদীয়া দাখিল মাদ্রাসায় যাতায়াত করতো। হঠাৎ করে এই কালভার্ট টি ভেঙ্গে ফেলার কারণে  প্রতিদিন এই পথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,  রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করাই কষ্টকর হয়ে ওঠে। এর মধ্যে আবার কালভার্টটি ভেঙে নিয়ে যাওয়ার কারণে স্কুল-মাদ্রাসাগামীদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা তাফাজ্জল হোসেন গাজী বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বিগত চার মাস পূর্বে পুরাতন কালভার্টি ভেঙ্গে নিয়ে যায় নতুন কালভার্ট নির্মাণ করে দিবে বলে। কালভার্ট নির্মাণ করার জন্য কিছু মালামাল এখানে আনা হলেও কালভার্ট নির্মাণ না করে মালামাল গুলো সেখান থেকে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত বহুবার আমরা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি বিভিন্ন অজুহাত ও তালবাহানা করেন।
আরেক ভুক্তভোগী আ: হান্নান বলেন, ‘কালভার্ট ভাঙার পরে আমরা একটি গাছ দিয়ে সাকুবানিয়ে চলাচল করি। কিছুদিন আগে এক লোক এখান থেকে পড়ে পা ভাঙছে। এখন এটাকে যদি সংস্কার করা না হয় তাহলে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা বর্ষাকালে এই রাস্তায় কাঁদা হওয়ার কারণে ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারেনা । কালভার্ট ভাঙার কারণে অনেকের  হাত ধরে পার হতে হয়। দ্রুত এই কালভার্টটি সংস্কারের আবেদন জানান তারা।
২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, পুরাতন কালভাট টি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য মালামাল নেওয়া হয়েছে কিন্তু এলাকার কিছু দুষ্কৃতিকারীদের বাধার কারণে ইউপি মেম্বার ওই মালামাল গুলো সেখান থেকে নিয়ে যায়। এখানে নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য কোন বাজেট নাই তারপরেও আমি বড় সিমেন্টের পাইপ অর্ডার করেছি অচিরেই স্থাপন করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কালভার্টি করার জন্য চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে বলছে আমি সেখানে পড়ায় ৫০,০০০ টাকার ইট বালু  নিয়েছি। চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে টাকার জন্য গেলে তিনি আমাকে দুই হাজার টাকা দেন এবং বলেন পুরো কাজটা করে শেষ দিতে ।এই কাজ শেষ দিতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার প্রয়োজন আমার কাছে এত টাকার কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমি আমার মালামাল গুলো সেখান থেকে নিয়ে আসছি।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা নজরুল ইসলামকে রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান চান সমর্থকরা

ফরিদগঞ্জে কালভার্ট ভেঙে ফেলছে ইউপি চেয়ারম্যান, দুর্ভোগে স্কুল-মাদরাসা শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা

আপডেট : ০৬:০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবাপূর্ব ইউনিয়নে ৩টি স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এবং ছয়টি বাড়ির মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তার মাঝে থাকা কালভার্টটি ভেঙে ফেলছে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ। গত ৪ মাস পূর্বে  নতুন কালভার্ট নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুরাতন কালভার্টটি ভেঙে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই এই কালভার্টটি এলাকার মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের কারণ।
মঙ্গলবার ( ৫ই মে ২০২৬) সরোজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের দিলাম বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তা হইতে পশ্চিম মুখী মজগুন বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা সড়কের মাঝখানে বহু পুরনো একটি কালভার্ট ছিল। এই সড়ক দিয়ে কয়েকটি বাড়ির শতাধিক শিক্ষার্থী বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিধুবা সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয় এবং অদুদীয়া দাখিল মাদ্রাসায় যাতায়াত করতো। হঠাৎ করে এই কালভার্ট টি ভেঙ্গে ফেলার কারণে  প্রতিদিন এই পথে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,  রাস্তা এখনো কাঁচা। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করাই কষ্টকর হয়ে ওঠে। এর মধ্যে আবার কালভার্টটি ভেঙে নিয়ে যাওয়ার কারণে স্কুল-মাদ্রাসাগামীদের লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা তাফাজ্জল হোসেন গাজী বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ও ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বিগত চার মাস পূর্বে পুরাতন কালভার্টি ভেঙ্গে নিয়ে যায় নতুন কালভার্ট নির্মাণ করে দিবে বলে। কালভার্ট নির্মাণ করার জন্য কিছু মালামাল এখানে আনা হলেও কালভার্ট নির্মাণ না করে মালামাল গুলো সেখান থেকে নিয়ে যায়। এ পর্যন্ত বহুবার আমরা চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি বিভিন্ন অজুহাত ও তালবাহানা করেন।
আরেক ভুক্তভোগী আ: হান্নান বলেন, ‘কালভার্ট ভাঙার পরে আমরা একটি গাছ দিয়ে সাকুবানিয়ে চলাচল করি। কিছুদিন আগে এক লোক এখান থেকে পড়ে পা ভাঙছে। এখন এটাকে যদি সংস্কার করা না হয় তাহলে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা বর্ষাকালে এই রাস্তায় কাঁদা হওয়ার কারণে ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারেনা । কালভার্ট ভাঙার কারণে অনেকের  হাত ধরে পার হতে হয়। দ্রুত এই কালভার্টটি সংস্কারের আবেদন জানান তারা।
২ নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, পুরাতন কালভাট টি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এখানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য মালামাল নেওয়া হয়েছে কিন্তু এলাকার কিছু দুষ্কৃতিকারীদের বাধার কারণে ইউপি মেম্বার ওই মালামাল গুলো সেখান থেকে নিয়ে যায়। এখানে নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য কোন বাজেট নাই তারপরেও আমি বড় সিমেন্টের পাইপ অর্ডার করেছি অচিরেই স্থাপন করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কালভার্টি করার জন্য চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে বলছে আমি সেখানে পড়ায় ৫০,০০০ টাকার ইট বালু  নিয়েছি। চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে টাকার জন্য গেলে তিনি আমাকে দুই হাজার টাকা দেন এবং বলেন পুরো কাজটা করে শেষ দিতে ।এই কাজ শেষ দিতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার প্রয়োজন আমার কাছে এত টাকার কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে আমি আমার মালামাল গুলো সেখান থেকে নিয়ে আসছি।