ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ কর্মকর্তার আবেদন

ঘুষ দাবি থেকে স্বেচ্ছাচারিতা—হাজীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

  • রিয়াজ শাওন:
  • আপডেট : ০৫:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • 55

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন হাজীগঞ্জ শাখার ২৬ কর্মকর্তা। তবে শাখা ব্যবস্থাপক অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তদন্ত হলে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার শফিকুল ইসলামের গৃহঋণ বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা এবং কম্পিউটার অপারেটর কাম হিসাব সহকারী সাখাওয়াত হোসেনের কাছে একইভাবে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঋণগ্রহীতাদের জন্য নির্ধারিত ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীদের বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া ব্যাংকের ঝাড়ুদারের মাসিক মজুরি ৩ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তাঁকে দেওয়া হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

আবেদনকারীদের দাবি, হাজীগঞ্জ শাখা থেকে আঞ্চলিক কার্যালয়ে অফিসের নথিপত্র আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত মাঠ সহকারী মো. মাহবুব আলমের নামে প্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তাঁকে ওই অর্থ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দের অর্থ শাখা ব্যবস্থাপক আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন অফিসের মাসিক আনুষঙ্গিক খরচ না করেই একসঙ্গে ভাউচার তৈরি করে সেগুলো নিজ হাতে লিখতেন। পরে সিও কাম হিসাব সহকারীকে সোনালী ব্যাংক থেকে বিল উত্তোলন করতে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত ঋণ মঞ্জুর হলে সহকর্মীদের এক প্যাকেট এ৪ সাইজের কাগজ দিতে বাধ্য করা, অফিস সহায়ককে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে অশোভন মন্তব্য এবং সহকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাজীগঞ্জ শাখায় গেলে ব্যাংকের মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা শাখা ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। তদন্ত হলে এগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”

এ বিষয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চাঁদপুর জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. রহমান বলেন, “আমি নতুন এসেছি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে হেড অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের কপিটি আমিও পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায়দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে পুরোনো পাবলিক টয়লেটে রং করে বিল তুলে নিল কারা?

২৬ কর্মকর্তার আবেদন

ঘুষ দাবি থেকে স্বেচ্ছাচারিতা—হাজীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আপডেট : ০৫:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন হাজীগঞ্জ শাখার ২৬ কর্মকর্তা। তবে শাখা ব্যবস্থাপক অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তদন্ত হলে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার শফিকুল ইসলামের গৃহঋণ বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা এবং কম্পিউটার অপারেটর কাম হিসাব সহকারী সাখাওয়াত হোসেনের কাছে একইভাবে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঋণগ্রহীতাদের জন্য নির্ধারিত ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীদের বাধ্য করা হয়। এ ছাড়া ব্যাংকের ঝাড়ুদারের মাসিক মজুরি ৩ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তাঁকে দেওয়া হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

আবেদনকারীদের দাবি, হাজীগঞ্জ শাখা থেকে আঞ্চলিক কার্যালয়ে অফিসের নথিপত্র আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত মাঠ সহকারী মো. মাহবুব আলমের নামে প্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তাঁকে ওই অর্থ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দের অর্থ শাখা ব্যবস্থাপক আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন অফিসের মাসিক আনুষঙ্গিক খরচ না করেই একসঙ্গে ভাউচার তৈরি করে সেগুলো নিজ হাতে লিখতেন। পরে সিও কাম হিসাব সহকারীকে সোনালী ব্যাংক থেকে বিল উত্তোলন করতে বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত ঋণ মঞ্জুর হলে সহকর্মীদের এক প্যাকেট এ৪ সাইজের কাগজ দিতে বাধ্য করা, অফিস সহায়ককে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে অশোভন মন্তব্য এবং সহকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাজীগঞ্জ শাখায় গেলে ব্যাংকের মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা শাখা ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক মো. ফারুক হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। তদন্ত হলে এগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হবে। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”

এ বিষয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চাঁদপুর জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. রহমান বলেন, “আমি নতুন এসেছি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে হেড অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের কপিটি আমিও পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও দায়দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।