মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতরের বাকি আর ৫/৬দিন। ঈদের আগে ও পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঘরে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে থানা পুলিশ । ঘরে ফেরা যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সেজন্য নেয়া হয়েছে সর্বস্তরের নিরাপত্তা প্রস্তুতি। এমন নিরাপত্তা থাকবে ঈদের পরেও। সড়ককে যাত্রী হয়রানি রোধ ও যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠা বন্ধ, ছিনতাই ও মলম পার্টি দৌরাত্ম্য রোধসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে ।
এজন্য উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল ও সড়কে অবস্থান করবে পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নজরদারি করবে, যাতে কোনো প্রকার আইন-শৃঙ্খলার ব্যত্যয় না ঘটে।
এবার ঈদে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সবাই। ঈদের টানা পাঁচ দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে এবার আগে-পরে মিলছে স্বাধীনতা দিবস, শবে কদর ও সাপ্তাহিক ছুটি। আর এই ছুটি নির্বিঘ্নে কাটাতে জেলা ও উপজেলা পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ (সোমবার) মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হবে। ৩১ মার্চ ঈদ-উল-ফিতর ধরে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। ঈদ উপলক্ষে এবারই প্রথম পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ছুটি মূলত শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ (বুধবার) স্বাধীনতা দিবসের দিন। এরপর ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) একদিন অফিস খোলা। ২৮ মার্চ (শুক্রবার) শবে কদরের ছুটি। এবার ২৯ মার্চ (শনিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি। টানা পাঁচ দিনের ছুটি (২৯, ৩০, ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিল) থাকবে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর মাঝখানে একদিন (৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার) অফিস খোলার পর আবার ৪ ও ৫ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসাবে ২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দিনের মধ্যে মাত্র দু’দিন অফিস খোলা।
ঈদ -উল -ফিতর উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। বিশেষ করে উপজেলায় নজরদারির জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা, অফিস, ব্যাংক শপিংমলসহ ব্যাপক লোকসমাগম হয় এমন স্থানে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পবিত্র রমজান ও ঈদ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে ঈদ পূর্ববর্তী ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তার ব্যাপারে সকল স্তরের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল ও সড়কে অবস্থান করবে পুলিশের সদস্যরা। রমজানে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণই নয়, একই সাথে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষর নিরাপত্তা ও জাল টাকার অপব্যবহার রোধ করতে পুলিশ বদ্ধ পরিকর।
তিনি আরো বলেন ‘জনসাধারণের কেনাকাটার সুবিধার্থে মার্কেট ও বিপনিবিতান গুলোতে নিরাপত্তমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোবাইল টিম, ভিজিলেন্স টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখছে।’ ফলে সর্বসাধারণ শান্তিপূর্ণভাবে এবার ঈদ উদযাপন করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।