চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে প্রস্তাবিত ঝুলন্ত (ক্যাবল-স্টেইড) সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ভূমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রস্তাবিত এ সেতু নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১৭৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে এটি দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রায় ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুটি হবে আধুনিক ক্যাবল-স্টেইড (ঝুলন্ত) কাঠামোর, যাতে চার লেন বিশিষ্ট সড়ক থাকবে। মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিতব্য এ সেতু দেশের অন্যতম নান্দনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। জানা গেছে, মোট ১৭.৪৫৭৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যে—মতলব উত্তর উপজেলার ১৫ নং জামালপুর আরাজী মৌজায় ১৪.৮৩২৫ একর (খাস ০.০৫৫০ একর এবং ব্যক্তি মালিকানায় ১৪.৭৭৭৫ একর), ১৭ নং বোরচর মৌজায় ২.২১০০ একর (সম্পূর্ণ সরকারি সম্পত্তি), ২০ নং বদরপুর মৌজায় ০.৪২৫০ একর (সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন), ৩৪ নং মুক্তারকান্দি মৌজায় ০.৪৭২৫ একর (সম্পূর্ণ খাস ভূমি), ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পের সম্ভাব্য মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নকশা ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হলে দ্রুতই মূল নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ, নদীর প্রবল স্রোত ও উচ্চ ব্যয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ভোলা জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াত সময় ও খরচ কমবে এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে মতলব–গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প। ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হলে দ্রুতই দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে এটি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক বলেন, “ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে।”


























